Friday, November 12, 2021

জুতোর অভিমান (১) —গোপাল চন্দ্র মন্ডল

                                 

                                                   

                     জুতোর অভিমান 

                 

                                            আমরা জুতোর দল

                                          এবার করবো হরতাল

                    তোমাদের আর ছাড়ব নাকো

                                           দেখাবো মোদের বল

                     তাই করবো হরতাল।


                       জুতো বলে নেইকো আশা

                 পাইনা আমরা ভালবাসা

                                         বয়স হলে আমরা কেন

                 যাব পুকুরের জল ?

                                    তাই করবো হরতাল।


          কেনার আগে কত সম্মান

                        এ.সি. লাগা কাচের দোকান

           তবে কেনার পরে করো কেন

                                      অবস্থা বেহাল ?

              তাই করবো হরতাল।





Tuesday, November 9, 2021

টাকার আত্মকথা ( তৃতীয় পর্ব ) ----- গোপাল চন্দ্র মন্ডল

  

টাকার আত্মকথা ( তৃতীয় পর্ব )

                              গোপাল চন্দ্র মন্ডল

দিন সাতেক পর মন্দিরের পান্ডা এক প্রণামী বাক্স থেকে আমাকে বের করেন । পান্ডা মশাই কৌশিকী অমাবস্যা তারাপীঠ যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরেন। সকালবেলা ঘুম ঘুম চোখে পান্ডা মশাই সিটে বসে আছেন, হঠাৎ একজন কানের কাছে এসে বলে— "চায় চা— চা খাবেন চা—"।


পান্ডা মশাই মানিব্যাগ থেকে আমাকে বের করে দিতে যাবে তখন চাওয়ালা বলে না দাদা খুচরো দিন। পান্ডা বলে আমার কি খুচরোর গাছ আছে যে তোমাকে ঝরিয়ে এনে দেবো। তখন আমার মনে হল যে মন্দিরের পান্ডাদের কাছে যদি খুচরো না থাকে তাহলে পৃথিবীতে কারোর কাছে খুচরো থাকবে না। কারণ মন্দিরে বস্তা বস্তা খুচরো জমা পড়ে আর পান্ডারা খুচরোর ব্যবসা শুরু করে ১০০ টাকা খুচরো দিলে ১৩০ টাকা নেয়। যাইহোক চা না খেয়েই পান্ডা মশাই সিটেই ঘুমিয়ে পড়েন। ঘণ্টাখানেক পর জানালা থেকে চিৎকার করে— এই পুরি, পুরি চলে এসেছে পুরি। পান্ডা তো অবাক! সে যাচ্ছিল তারাপীঠ আর ট্রেন এলো পুরী ? এটা কি করে সম্ভব? পান্ডা মশাই ব্যাগ নিয়ে ট্রেন থেকে যেই নামতে যাবে তখন আবার শোনা যায় পুরি খাবেন পুরি ? পান্ডা বুঝতে পারেন এটা উড়িষ্যার পুরী নয় এটা হল খাবার পুরি। তিনি আবার সিটে গিয়ে বসেন।



             তারাপীঠ পৌঁছে পান্ডা মশাই লারিকা হোটেলে ওঠেন। সারারাত থাকার পর, পরদিন দুপুরবেলা রামপুরহাট পৌঁছালেন। এই সময় আমি চলে এলাম এক মুসলিম অটো ড্রাইভারের কাছে। বাড়ি ফিরে ড্রাইভার আমাকে দান করে দেয় মসজিদে। মসজিদে তিন দিন থাকার পর আমাকে যেতে হয় এক ধূর্ত রাজনীতির নেতার কাছে। সে আমাকে দিন পনেরো কাছে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর এই কয়েক দিনেই নেতার আসল চরিত্র বুঝতে পারলাম। সাধারণ জনগণকে টুপি পড়িয়ে সে কেবল নিজের স্বার্থ পূরণ করছে। যতরকম বেআইনি কাজ হয় সবকিছুই করে সে। সব ব্যাংকের একাউন্টে প্রচুর টাকা আছে তার। টাকার পাহাড় জমিয়েছে সে। আর বাকি কালো টাকাগুলো সে নিজের বাড়িতে মাটির ভিতরে পুঁতে রাখে বাক্সের মধ্যে ভরে। ২০ দিন পর আমাকেও পুঁতে রাখলো। প্রায় পাঁচ বছর পর মুক্তি পেলাম। এক ডাকাত আমাকে মুক্তি দিল। সে বাক্সটাকে ভেঙে টাকাগুলোকে থলেতে ভরে বাক্সটাকে পুকুরের জলে ফেলে দিল। ডাকাতের তাড়াহুড়োর কারণে বাক্সটার সঙ্গে আমিও রয়ে গেলাম। একটু একটু করে জল ঢুকতে থাকে বাক্সে। কিছুক্ষণ পর আমি জলের উপরে ভাসতে লাগলাম।



               পরদিন সকালবেলা একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে আমাকে দেখতে পায়। তারপর সে কোনরকমে আমাকে তার নাগালের মধ্যে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং আমার সর্দি লাগা ভাল করতে সারাদিন সূর্যের আলোতে ফেলে রাখে। আমাকে পেয়ে সে এতো খুশি যে তার পড়াশোনাটাই বন্ধ হয়ে গেল। সন্ধ্যাবেলা মেয়েটা একটা স্টেশনারি দোকানে গেল আমাকে নিয়ে। তার পছন্দের মত কিছু জিনিস কিনলে সে। দোকানদার পরদিন আমাকে কোটাসুর স্টেট ব্যাংকে রেখে আসে। সেখান থেকে একটা এ.টি.এম -এ আমাকে রাখা হয়। এ.টি.এম থেকে আমাকে বের করে একটা ঢপবাজ ছেলে তার বন্ধুকে ফোন করে— কিরে মদন তুই কি পৌঁছে গেলি? আমি আজকে যেতে পারব না। পেটের অবস্থা খুবই খারাপ। সারাদিন টয়লেটে ঢুকে আছি। বেরিয়ে যেতে ইচ্ছেই করছে না। লোকে বলে শান্তি শ্মশানে, কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল কথা, কারণ সবচেয়ে বেশি শান্তি টয়লেটে। "শান্তি চাও, তো টয়লেট যাও"। যাইহোক বদমাশ ছেলেটার কাছ থেকে একটা অভিজ্ঞতা হয়ে গেল যে ফোনের মাধ্যমে যত খুশি মিথ্যা কথা বলা যায় আর মিথ্যা কথার শিকার হয় সহজ সরল ব্যক্তিরা।



             এরপর ধীরে ধীরে প্রায় পনেরো বছর কাটলো ভারতবর্ষের নানা জায়গায়। বিভিন্ন ধরনের লোকের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে কত রকম বিচিত্র অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার হয়ে উঠলাম আমি। কখনো কাশ্মীর তো কখনো কন্যাকুমারিকা, কখনো আসাম তো আবার কখনো পাঞ্জাব। ভারতবর্ষের প্রায় সমস্ত জায়গায় যেতে হয়েছে আমাকে। তাই কখনো ভালো মানুষ, কখনো আবার ভালো মানুষের মুখোশে সন্ত্রাসবাদী, কখনো কখনো ধান্দাবাজ, খুনি, ডাকাত সবার পকেটে থাকতে হয়েছে আমাকে। তাই আমি মনে করি টাকা যদি সাক্ষী দিতে পারতো তাহলে সব অন্যায়ের বিচার খুব সহজেই হয়ে যেত। সি.আই.ডি কিংবা সি.বি.আই তদন্তের প্রয়োজন হতো না। যাইহোক মানুষের প্রয়োজন মেটাতে মেটাতে একদিন নিজেকে লক্ষ্য করে দেখি যে আমার শরীরের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। পঁচিশ বছরে পা দিয়েছি এবং আমার শরীর জীর্ণ হয়ে এসেছে। গান্ধীজীর ভার বইতে বইতে আমি অতি ক্লান্ত। আমার শরীর দু'টুকরো হতে চলেছে। তাই আমার প্রয়োজন ধীরে ধীরে কমে আসছে। আমি বুঝতে পারছি শরীরের ক্ষমতা শেষ হয়ে এলে সবাই অবহেলিত হয়। আমিও আজ অবহেলিত। আর কোন মূল্য নেই আমার। আমিও চাইনা এই বিষময় পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে। হে ঈশ্বর-আল্লা-ভগবান আমাকে তুমি মুক্তি দাও, মুক্তি দাও।



      

Sunday, October 31, 2021

টাকার আত্মকথা (পর্ব -২) - গোপাল চন্দ্র মন্ডল

         



       

         সন্ধ্যাবেলায় আধ সেকেন্ড লেট না করে ছেলের  মহান পিতার প্রবেশ ঘটলো পাঞ্জাবির বাড়িতে। মৃত্যুকে আহ্বান করার মত পাঞ্জাবিবাবু ডাকলো আসুন আসুন, বসুন এখানে। হারকিপটে বাঙালি বেহাই মশাই বলল— আজ আর বসে সময় নষ্ট করব না, যার জন্য এসেছি সেটা নিয়ে আসুন তো বাপু। নইলে আবার যদি আসতে হয় তাহলে আমার আসার ভাড়া বাবদ ২৩০০৩ টাকা ৫০ পয়সা সুদে-আসলে ধরে নেব। অসহায় পাঞ্জাবি টাকাটা দিল। দেখে মনে হল পাঞ্জাবির শরীর থেকে হৃৎপিণ্ড বেড়িয়ে গেল। এরপর বাঙালিবাবু প্লেনে করে আমাকে ও আমার বন্ধু বান্ধবীদের নিয়ে এলো পশ্চিমবাংলায়— কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে।


                আলমারির ভিতরে দিন দুই থাকার পর আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ফুলের বাজারে। ফুল দেওয়ার পর ফুল বিক্রেতা আমাকে তার কোচরে ভরে রাখে। ব্যাটা এতটাই নির্দয় যে আমি মরলাম না বাঁচলাম সেটা লক্ষ্য করে না। কিছুক্ষণ পর ফুল বিক্রেতা বাথরুমের রাস্তা ধরে। যেতে যেতে লোকের ধাক্কায় আমি মাটিতে পড়ে গেলাম। কি দুর্গন্ধময় জায়গা সে আর বলার নয়। দশ সেকেন্ড পর এক পাগল এসে আমাকে পায়ে ছেঁটে মারিয়ে দিল। খালি পায়ে ছিল তাই সে বুঝতে পারল তার পায়ের নিচে কিছু একটা আছে। সে আমাকে হাতে তুলল, মিনিটখানেক গবেষণা করার পর হা হা করে হাসতে লাগলো। চারদিকে তাকিয়ে আমাকে গোল করে পাকিয়ে চুলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিল। মনে মনে ভাবলাম পাগলে নিজের নাম ভুলে যায়, বাবা-মাকে চিনতে পারেনা কিন্তু টাকার ছাপতো বেশ মনে রাখে। এরপর পাগলটা এক দৌড়ে রাস্তায় চলে এলো। সেখান থেকে ঝড়ের মত বেগে দুই হাতে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে আবার দৌড় শুরু করলো। এরপর হঠাৎ সে উল্টো দিকে দৌড়াতে লাগল। ঠিক এই সময় হঠাৎ একটা ট্রাক এসে পাগলটাকে পিষে দিল। রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল তার রক্তাক্ত দেহ। সবাই দূর তাকে থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে কিন্তু কেউ তুলতে আসে না। আমি অবাক হয়ে গেলাম কারণ একটা কুকুর মরলেও চারটে লোক পাওয়া যায় কিন্তু পাগল মরলে কারো কিছু এসে যায় না।


               মিনিট পাঁচেক পর একজন এলো, চারদিকে ঘুরে দেখলো কিন্তু পাগলটাকে হাত দিলো না। সে আমার রক্তমাখা বডিটাকে তুলে রুমাল বের করে পরিষ্কার করতে লাগলো। যদিও রক্তের দাগ পুরোপুরি উঠলো না। এরপর সে খুব যত্ন করে আমাকে তার মানিব্যাগে রাখল। পাগল টাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে আমার করছিল না, কিন্তু আমি যে অসহায়। এরপর লোকটা আমাকে নিয়ে একটা বাসে উঠলো। বাস থেকে নেমে রেলস্টেশনের বারান্দায় বসে পড়ল। সে বলতে লাগল— দাদা আমাকে কিছু সাহায্য করুন। আমার বিধবা স্ত্রীর ক্যান্সার হয়েছে। ভুল বলে ফেলেছি বুঝতে পেরেছে ঠিক করে বলে— না মানে আমার মাথা ঠিক নেই বাবু আমার বউকে যদি বাঁচাতে না পারি তাহলে আমি যে বিধবা হয়ে যাব, মানে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাব। দয়া করে কিছু সাহায্য করুন। ঘণ্টাখানেক পর তাকিয়ে দেখি যে মানিব্যাগে আমার পাশের জায়গাগুলো পূর্ণ হয়ে গেল। প্রায় হাজার খানেক টাকা নিয়ে পৌঁছালো একটা অ্যাক্সিস ব্যাংকে। হাজার টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা করল। কিন্তু আমাকে মানিব্যাগে রেখে দিল। ব্যাংক থেকে বেরিয়ে লোকটা বলল— আজকে এতো অল্প সময়ের মধ্যেই কিস্তিমাত করে দিলাম যে আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। এভাবে প্রত্যেকটা দিন চললে কয়েক বছরের মধ্যে আমি কয়েক লক্ষ টাকার মালিক হব। আর তখন আমার গাড়ি বাড়ি সব হবে। এছাড়া মনের মত সুন্দরী বউও পাবো। তারপর এই বিজনেসটা কে বাড়াবো। কর্মসংস্থানে এ্যাড দেবো মানুষকে টুপি পরানো বুদ্ধিসম্পন্ন ৫০০ভিখারি চাই। মাসে বেতন ১০০০০ টাকা সাথে থাকা-খাওয়া ফ্রি। আর তখন আমি হবো ভিখারির রাজা, এ যে আমার অনেকদিনের স্বপ্ন। বলতে বলতে আমাকে মানিব্যাগ থেকে বের করে চুম্বন করে আর বলে তুই আমার কাছে খুব লাকি তাই তোকে আমি আমার কাছেই রেখে দেবো। মানুষ হয়ে মানুষকে যে এভাবে ঠকাতে পারে তা এই ভিখারিকে দেখে বুঝলাম। আর বুঝতে পারলাম এ হলো ভি.আই.পি ভিখারি এবং বড় মাপের অভিনেতা। অভিনয়ে সে অস্কার পাবার যোগ্য। যাইহোক বহুকষ্টে মানিব্যাগের ভিতর পাঁচ বছর কাটলো। পাঁচ বছর পর ভিখারি তার বউকে বলল— ডার্লিং এবার আমার বেড়োনোর সময় হয়েছে। তুমি আমার খাতাপত্র রেডি করে দাও। কয়েকজন নতুন ভিখারি চাকরিতে জয়েন করেছে। আমি ওদের ট্রেনিং দিতে যাবো। এ.সি গাড়িতে যেতে যেতে সে একটা মন্দিরে দাঁড়ালো। মন্দিরে উঠে প্রণামী বাক্সে আমাকে ফেলে দিল। আমি বললাম হে মা তুমি আমাকে বাঁচালে।

     


                               

Saturday, October 30, 2021

  টাকার আত্মকথা(১ম পর্ব)   -    গোপাল চন্দ্র মন্ডল 




        
      

               আমি এক বৃদ্ধ বয়স্ক একশো টাকার নোট। জীবনের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হয়ে আমি আমার জীবন কাহিনী এবং বর্তমান সমাজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চাই। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগে আমার জন্ম হয় মুম্বাই শহরে। আমার পিতা হলেন মহাশক্তিশালী এক মেশিন। তাঁর এতটাই ক্ষমতা যে তিনি এক মিনিটে কয়েক হাজার সন্তান জন্ম দিতে পারেন। যদিও তাঁর নিজের ইচ্ছায় এই সমস্ত কাজ সম্ভব নয়, মানুষের ইচ্ছার উপরই তাঁকে নির্ভর করতে হয়। মাতাহীন পিতার সন্তান আমি, বর্তমান সমাজে আমার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। মানুষ আমাকে ছাড়া চলতে, বলতে, খেতে, বেড়াতে, ঘুমোতে, এমনকি মরতেও পারে না। এ জগতে আমিই সব। কিছু কিছু মানুষের কাছে আমিই ভগবান-আল্লাহ-ঈশ্বর।



          মুম্বাইয়ের ছাপাখানা থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয় মহারাষ্ট্রের একটি স্টেট ব্যাংকে। সেখানে কিছুদিন বেশ আরামেই কাটলো, কারণ গ্রীষ্মের দিনে এ.সি. রুমে কার না ভালো লাগে। এখান থেকে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছেই করছিল না। কিন্তু করার কিছু নেই। কারণ আমার ডিউটি হল বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো। এরপর একদিন হঠাৎ এক পাঞ্জাবী লোক তাঁর কুইন্টাল খানেক ভুড়ি নিয়ে ব্যাংকে হাজির হল এবং বলল আমাকে দু'লক্ষ টাকা এখনই দিতে হবে। আমার মেয়ের বিয়েতে বরপণ হিসেবে এই টাকাটা আজকেই প্রয়োজন। ব্যাংকের ম্যানেজারবাবু লোকটাকে পাঁচশো টাকা, হাজার টাকা ও একশো টাকার নোটের বান্ডিল দিলেন। এদের মধ্যে আমিও ছিলাম আর তখনই বুঝলাম যে এই পাঞ্জাবি আমাকে আর আরামে থাকতে দেবেনা। এরপর সুটকেসের ভিতরে ভরে পাঞ্জাবি নিয়ে এলো তার বাড়িতে। টাকা বের করতে করতে পাঞ্জাবি বলল— কত কষ্ট করে আমি এই টাকা ইনকাম করেছি আর কিছুক্ষণ পরেই এই টাকা আমার থাকবে না। এ কেমন নিয়ম! মেয়ে দিতে হবে আবার টাকাও দিতে হবে ? যে এই প্রথা চালু করেছিল তাকে যদি সামনে পেতাম তাহলে সেটাকে বস্তায় ভরে সেলাই করে বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে দিতাম। ব্যাটা তাতেও যদি না মরত তাহলে সেটাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফুটন্ত জলে ডুবিয়ে রাখতাম। পাঞ্জাবি ব্যাটা সারাদিনে এক চামচও জল খাইনি কিন্তু টাকার শোকে চোখ থেকে দু'গ্লাস জল বেরিয়ে গেল। ব্যাটাকে দেখে আমার দুঃখ হল আবার রাগও হল কারণ সে জানে যে পণ দেওয়া ও নেওয়া সমান অপরাধ তবুও সে এর প্রতিবাদ করছে না।


Saturday, October 23, 2021

প্রথম প্রেম ----গোপাল চন্দ্র মণ্ডল

      



অবচেতন মনে হঠাৎ এক শিহরণ জাগানো সেই সময়...


তোমাকে পেয়ে, স্নায়ুদল উত্তেজিত, আনন্দের ঘনঘটা,


সেদিন কি ভোলা যায় ! অসম্ভব। স্মৃতির পটে ভেসে রয়...


বসন্তের ঘ্রাণে ; বৃষ্টি ভেজা দিনে ; কিংবা বিরহের কলতানে তোমার'ই ছটা।


মুহূর্তে চোখের সামনের দৃশ্য হয়ে যায় মায়াবী ছবি,


তোমাকে পেয়ে তাই সেই ছোট্ট শিশু হয়ে গেছে আজ বিশ্বরবি।


তোমার প্রেমে, তোমার বহুরূপী রূপে প্রেমিক হয়ে রব কবিতা,


তোমার রুপে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রই, বিলিয়ে দেব শব্দরত্ন সব'ই তা।


তুমি হৃদ-কমলের সুরক্ষিত কোমল স্থানের রাজরানী...


তুমি সাধনা, আমি পূজারী, সদা কানে বাজে তোমার দৃপ্ত বাণী।


তুমি প্রথম প্রেম, তাই ভুলতে চায়না কখনো এ মন...


তোমাকে ভালোবেসে কেটে যাবে তোমার শব্দ প্রেমিকের এ জীবন।

Friday, October 22, 2021

পিতা স্বর্গ     —গোপাল চন্দ্র মণ্ডল

 পিতা স্বর্গ

  



পিতা শব্দ যেন স্বর্গসম,

নির্দ্বিধায় কত আঘাত

কত বঞ্চনা,সহে যায় মহাত্মা,

তোমার ঝরা ঘামে, দেহ বিকশিত মম।


হে পিতা তুমি দেখালে 

এই বিশ্বভুবন,

তোমার দানের ঋণ

পরিশোধে হব আমি বিলীন।


তোমার বৃক্ষছায়ায়

আগলে রেখেছ ঝড়-ঝাপটা,

গর্বে ভরে ওঠে বুক

আমি তোমার মত বাপের ব্যাটা।


তুমি আছো কাছে তাই

অনুভবে স্বর্গসুখ,

তোমার করুণা পেলে

সদা রবে হাসিমুখ।

Thursday, October 21, 2021

Thursday, September 23, 2021

 



  




আপনাদের সামনে ২৫ তারিখ ঠিক সন্ধ্যা ৭টা  সময় আসতে  চলেছে ভুই বলে একটা গল্প ।

যে গল্পের মূল বিষয় বস্তু -আদিবাসী ছেলের সাথে উঁচু বর্ন মেয়ের প্রেমে ।






সমাজ কিভাবে তাদের গ্রহণ করেছিল তাদের প্রেম কাহিনী 


শেষ পর্যন্ত অভাব এর কাছে কিভাবে তারা হার মানল । 

 গল্পের শেষ পরিণতি কি হল ।

রাজনীতি কিভাবে প্রেমে আঘাত হানল ।

সবই আপনারা জানতে পারবেন এই গল্পে ।

আবার ও বলি যে যদি অজানা প্রেম কাহিনী র আজ তুমি নেই গল্পের পর্ব গুলো না দেখে থাকেন তাহলে নীচে লিংক দেওয়া হল । দেখবেন আর নিজের মূল্যবান মতামত দেবেন ।
                    

        


প্রথম পর্ব -   https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post.html