আমি এক বৃদ্ধ বয়স্ক একশো টাকার নোট। জীবনের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হয়ে আমি আমার জীবন কাহিনী এবং বর্তমান সমাজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চাই। আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগে আমার জন্ম হয় মুম্বাই শহরে। আমার পিতা হলেন মহাশক্তিশালী এক মেশিন। তাঁর এতটাই ক্ষমতা যে তিনি এক মিনিটে কয়েক হাজার সন্তান জন্ম দিতে পারেন। যদিও তাঁর নিজের ইচ্ছায় এই সমস্ত কাজ সম্ভব নয়, মানুষের ইচ্ছার উপরই তাঁকে নির্ভর করতে হয়। মাতাহীন পিতার সন্তান আমি, বর্তমান সমাজে আমার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। মানুষ আমাকে ছাড়া চলতে, বলতে, খেতে, বেড়াতে, ঘুমোতে, এমনকি মরতেও পারে না। এ জগতে আমিই সব। কিছু কিছু মানুষের কাছে আমিই ভগবান-আল্লাহ-ঈশ্বর।
মুম্বাইয়ের ছাপাখানা থেকে আমাকে নিয়ে আসা হয় মহারাষ্ট্রের একটি স্টেট ব্যাংকে। সেখানে কিছুদিন বেশ আরামেই কাটলো, কারণ গ্রীষ্মের দিনে এ.সি. রুমে কার না ভালো লাগে। এখান থেকে বেরিয়ে যেতে ইচ্ছেই করছিল না। কিন্তু করার কিছু নেই। কারণ আমার ডিউটি হল বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো। এরপর একদিন হঠাৎ এক পাঞ্জাবী লোক তাঁর কুইন্টাল খানেক ভুড়ি নিয়ে ব্যাংকে হাজির হল এবং বলল আমাকে দু'লক্ষ টাকা এখনই দিতে হবে। আমার মেয়ের বিয়েতে বরপণ হিসেবে এই টাকাটা আজকেই প্রয়োজন। ব্যাংকের ম্যানেজারবাবু লোকটাকে পাঁচশো টাকা, হাজার টাকা ও একশো টাকার নোটের বান্ডিল দিলেন। এদের মধ্যে আমিও ছিলাম আর তখনই বুঝলাম যে এই পাঞ্জাবি আমাকে আর আরামে থাকতে দেবেনা। এরপর সুটকেসের ভিতরে ভরে পাঞ্জাবি নিয়ে এলো তার বাড়িতে। টাকা বের করতে করতে পাঞ্জাবি বলল— কত কষ্ট করে আমি এই টাকা ইনকাম করেছি আর কিছুক্ষণ পরেই এই টাকা আমার থাকবে না। এ কেমন নিয়ম! মেয়ে দিতে হবে আবার টাকাও দিতে হবে ? যে এই প্রথা চালু করেছিল তাকে যদি সামনে পেতাম তাহলে সেটাকে বস্তায় ভরে সেলাই করে বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে দিতাম। ব্যাটা তাতেও যদি না মরত তাহলে সেটাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ফুটন্ত জলে ডুবিয়ে রাখতাম। পাঞ্জাবি ব্যাটা সারাদিনে এক চামচও জল খাইনি কিন্তু টাকার শোকে চোখ থেকে দু'গ্লাস জল বেরিয়ে গেল। ব্যাটাকে দেখে আমার দুঃখ হল আবার রাগও হল কারণ সে জানে যে পণ দেওয়া ও নেওয়া সমান অপরাধ তবুও সে এর প্রতিবাদ করছে না।
No comments:
Post a Comment