Sristi proyas

Sristi Proyas is bigest platfrom in west bengal. Connect with Apply to millions of job opportunities across top companies, Ngo, private company ,Goverment ,industries and locations on west bengal, India's No.1 job site.

advertisement

Sristi's world

Advertisement

আজ তুমি নেই  পর্ব-৫


ঠিক এমন সময় দুপুর ১২টা ৪৭ একটা মেসেজ এল তার ফেসবুকে -----------
ঋষি খুলে দেখে মেসেজ টা এসে ছিল ঋতিকা ভট্টাচার্য ।
আর যার চিন্তা ঋষি করছে সে ত ঋতিকা মন্ডল কোন ছবি ও নেই ----- ---------------------------

রেল লাইন এ টিকিট কাটতে গিয়ে নিজের মনে র কোনে জমে থাকা ভালোবাসার মানুষ ঋত্বিকার সঙ্গে দেখা।
সে এখন বিবাহিত।চোখে তার ছিল অনেক জিজ্ঞাসা ,

মনের কোণে জমে থাকা অভিমানী র ছিল অনেক প্রশ্ন।

হাজারো প্রশ্ন। উত্তর নেই। চোখে চোখে হয়েছিল সেদিন হাজার কথা। মুখেছিল শুধু সৌজন্য বোধ।
তার পর আজকে এই হঠাৎ এই মেসেজ।।।।

এটা ভাবতে ভাবতে মেসেজ টা খুলল ---দেখল মেসেজে লেখা ---

""মেয়েটা দেখতে খুব মিষ্টি রে
কি নাম । তোর সাথে খুব মানিয়েছে রে ।

আমি ঋতিকা রে ।
আমার নামটা পরিবর্তন করতে হয়েছে স্বামীর পরিচয় সূত্রে ""।
চিনতে পেরেছিস । ভুলে গেছিস বল ঋষি । আমি তোর ঋতু । কেমন আছিস ..........

ঋষি---বেঁচে আছি মরিনি এখন ও । তুই কেমন আছিস ??


:::-- অনেক দিন পর দেখা হল স্টেশনে তোর চোখের সামনে চোখ রেখে কিছু বলার মত ভাষা ছিল না রে ।

::;-হা রে -৪বছর ৬মাস পর দেখা হল ।

:::- তুই এত সঠিক ভাবে মনে রেখেছিস কিভাবে

::;;;--চাইলেও ত সব ভোলা যায় না রে ঋতু ।

:::::::--বাদ দে তোর স্ত্রী কেমন আছে দেখতে কিন্তু খুব সুন্দর ।

::::--বিয়ে ই হয় নি আবার স্ত্রী --কি যে বলিস

কেন ????

ঋষি:::::-- কাউকে ভালোবেসে ছিলাম

::::--অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে কি জীবন চলে ।

::::--না চলে না জীবন জীবনের গতিতে যায় আমি আমার গতিতে ।

:::--এখন ও তুই আগের মত ই আছিস ।

:::::---হা রে কারণ বদলাবার মানে খুঁজে পাই নি তাই ।

ঋতু :::--তুই সিগারেট খাস ?

::;;-- ওটাই ত এখন ---------সঙ্গী রে ।

:::::---তোর নাম্বারটা দে পরে কথা বলব ।ভালো থাকিস ।

:ঋষি :::---হা রে তুই ও ভালো থাকিস ।

বাই বলে অফলাইন হয়ে গেল ।



এই ভাবে দুজনের কথা শুরু হল সোশ্যাল মিডিয়ায় । নিজেদের ভালো লাগা খারাপ লাগা সব বিষয় তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করত

ঋষি যেন সেই আগের দিন গুলো ফিরে পাচ্ছে । এক অসম্ভব সুখ যে ন অনুভব করছে ঋষি ।
ফেসবুক থেকে কথাপোকথন শুরু হল whatsapp এ । খুব ভালো ই চলছিল ।

কিছু দিন কথা বলার পর আবার কথা বলা বন্ধ হয়ে গেল হঠাৎ ।


আবার 10দিন হয়ে গেল ঋষি মেসেজ করেই যাচ্ছে কোন উত্তর নেই । ফোন করলেও ফোন ধরে না কেউ ।
। ঋষি আর না থাকতো পেরে এটাই শেষ মেসেজে ভেবে নিজের আবেগের কথা লিখল --

সুখ ছেড়ে দুঃখ খোঁজে ক জন
দুঃখ শুধু আমাদের খোঁজে
এটা ই বা মেনে নিতে পারে কোন সুজন।

"""জানি না কেন তোকে এত মিস করি ।
তুই অফলাইন হলে মনে হয় আমার কি যেন নেই যেটা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে । যেন আমি আমার মাঝে আমি থাকি না । 

জানি তোকে তোর স্বামী খুব ভালোবাসে । খুব পছন্দ ও করে ।করবেই বা না কেন বল ।

জানি না কি পেয়েছি তোর মাঝে তবে জানিস এই টুকু আমি জানি তুই ছাড়া আমি একা ---বড় বেশি একা । 

তোকে কাছে এসে কথা বলা বা দেখা করার জন্য কোন দিন কোন কিছু বলব না রে ।

তোকে দূর হতেই না হয় সব সুখ আমি পাব তুই শুধু কথা বলা টা বন্ধ করিস না ঋতু । 
তুই কথা না বললে যে কিছুই ভালো লাগে না রে । 


এই মেসেজ করা দুদিন হয়ে গেল কিছুই উত্তর নেই । ঋষি আবার ও ঘন ঘন ফোন খুলে দেখছে whatsapp এ মেসেজ সিন করেছে কি না । ঠিক পরের দিন সকাল এ ফোন খুলে ঋষি দেখে একটা মেসেজ ।

ঋতু করেছে ভোর 4টে 45মিনিট এ ---------

আমি এক ফসলা বৃষ্টি চাই তোকে নিয়ে ভিজব বলে ।

তোর সাথে দেখা করতে চাই চোখের জলের সেই বালিশ টা তোকে দেব বলে ।


নিচে একটা ছবি ও পাঠিয়েছে ঋতু ।

যেখানে পোষ্ট দেখা যাচ্ছে - আগুনে পুড়ে গেছে এমন একটা কাপড় । ঋষির বুঝতে অসুবিধা হল না কেন তার কল /মেসেজের উত্তর এত দিন দেয় নি ঋতু ।

ঋষি ও লিখল whatsapp এ ---

আমি তোর সাথে দেখা করতে চাই তোর চোখের জলের ওই বালিশ টা নেব বলে ।

সকাল 11টা প্রায় এমন সময় উত্তর এল --

সেই ছাতিন গাছে র নীচে দেখা করব কালকে আমি বাড়ি গিয়ে । তোর ত অফিস আছে পারবি ছুটি নিতে । যদি পারিস দেখিস ।

কোন কিছু না ভেবেই ঋষি বলে দিল হা নিশ্চয় পারব । 


বিনীতা কে ফোন করে বলে দিল ঋষি যে কালকে শরীর টা খারাপ সেই জন্য সে অফিস যেতে পারবে না ।

কত দিন পর কালকে দেখা হবে ঋতুর সাথে । সেই রাত্রে ঋষি যেন এক অলীক ভাবনায় ডুবে যাচ্ছে । চোখে তার ঘুম নেই ।

সঙ্গে সঙ্গে এটাও মনে হচ্ছে ঋষির যে -ঋতুর সাথে এমন কিছু একটা হয়েছে না হলে আগুনে পোড়া কাপড় ছবি কেন পাঠাল ।
 শুধু এই চিন্তা টাই তাকে যেন ঘুমোতে দিচ্ছে না ।
বহুবিধ প্রশ্ন যেন তার মনে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে ।


পরের দিন সকালে উঠে ঋষি বাড়ির যাবতীয় কাজ করে ঠিক 11 টা হবে এমন সময় গিয়ে পৌঁছালো সেই ছাতিন গাছে নীচে ।

দেখে ছাতিন গাছ টা কত বড় হয়ে গেছে ।
সেখানে গিয়ে তার সব পুরোনো স্মৃতি গুলো যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে ।

গাছে র নিচের দিকে যেখানে তাদের দুজনের নাম লেখা ছিল খোদাই করে ।
সেই জায়গা টা যেন মিলিয়ে গেছে শুধু রয়েছে ঋষি র - ঋ আর ঋতিকা র - ঋতি আর যে +চিন্হ টা ছিল সেটা যে -- বিয়োগ চিন্হ হয়ে গেছে ।
এটা দেখে ঋষি মনে মনে ভাবতে লাগল যে -গাছ টা ও বুঝি জেনে গেছে তাদের সম্পর্কে র পরিণতি টা আজ কোন জায়গায় ।

এটা ভাবছে ঠিক এমন সময় আগমন হল -ঋতিকা র ।
পরনে ছিল সেই চুড়িদার । যে চুরিদারের কালার টা ঋষি খুব পছন্দ করত ।
চুল গুলো ছিল যেন এলোমেলো ।বাম হাতে একটা ছোট ব্যাগ । ডানহাতে স্মার্টফোন ।

ঋতিকা এসে মৃদু স্বরে বলল - ------

:::-ভালো আছিস .মা বাবা কেমন আছে ?

:::--ভালো আছে মা বাবা ।তোর মা কেমন আছে ।

:::--ভালো রে । বলে ঋষির চোখের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল ঋতিকা ।

::: --কাঁদিস না কি হয়েছে সেটা বল ..........

এই কথা টা বলতেই ঋষির ডান হাত টা ধরে চুরিদারের পিঠের চেন টা খুলতে বলে ঋতিকা ।

চেনটা খুলে ই ঋষির চোখের জল আর আবেগ মিলেমিশে একা কার হয়ে গেল যার প্রতিটি ফোটা গিয়ে পড়ল পিঠে লাল কালসিটে দাগের উপর ।

ঋতিকা::--তুই বলছিলিস না আমি ভালো আছি স্বামী কে নিয়ে খুব আনন্দে সংসার করছি দেখ ভালো করে দেখ এটা আমার স্বামী আমাকে উপহার দিয়েছে । দোষ টা কি জানিস ঋষি-


যে লোভে আমাকে বিয়ে করেছিল সেটা পাই নি বলে ।
মা মামা এক সাথে যুক্তি করে আমার বিয়ে দিয়েছিল
যাতে আমাদের সম্পত্তি পুরো টা গ্রাস করতে পারে মামা । আর কিছু আমায় জিগেস করিস না । ঋষির দুটো হাত ধরে -আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে আমি আর পারছি না ওখানে থাকতে । কালকে ভেবে ছিলাম নিজেকে শেষ করে দেব কিন্তু এত সহজে আমাকে মরতে দেবে না বিধাতা । এই জন্য ত আর মরা হল না রে ।

এই সমস্ত কথা গুলো শুনে ঋষি নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারছে না ।

ঋষি নিজের মনে র আবেগের কথা বলতে যাবে ঠিক এমন সময় বাড়ি থেকে ফোন ।

ঋষির মা --কোথায় আছিস তোর বাবার পায়ের ব্যথা টা খুব বেড়েছে তাড়াতাড়ি আই ।


এই কথা গুলো শুনে ঋতিকা ও তার বাড়ি আসতে চাইল ।
ঋষি ও ঋতিকা দুজনে ই ঋষির বাড়ি এল । 

বাড়ি ঢুকবে এমন সময় দেখে ঋষি -একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে যে গাড়িটা ঋষির বাবা কে নিয়ে যাবে বলে ।

 এই গাড়িটা কে এনেছে আমি ত গাড়ি বলি নি এটা ভাবতে ভাবতে ঋষি ঘরে ঢুকল ।

ঘরে ঢুকেই দেখল --বিনীতা ............

(যাকে মিথ্যা বলেছিল )
আপনাদের সাথে পরের পর্বে আবার দেখা হবে খুব শীঘ্রই।


ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিজের শরীরের খেল রাখবেন ।


                                   ধন্যবাদ 



1 comment:

Unknown said...

Apnar ei story ta Valo laglo tobe akta Kotha jante chai ei story ta te ki nayok ta ki APNI nije. Bolben plz .

Bottom Ad [Post Page]

| Designed by ARPAN MANDAL