Friday, April 3, 2020

আজ তুমি নেই (পার্ট-৩)

আজ তুমি নেই (পার্ট-৩)


ঋষি -ঋতিকা কে ব-লে যখন পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে এল তখন ঋষির মনে ছিল অনেক আশা ।কিন্তু সে মিনিটের পর মিনিট অপেক্ষা করছে ঋতিকা এল না । ----------
প্রায় ১০মিনিট হয়ে গেছে তখন ঋষি না থাকতে পেরে পরীক্ষার হলে চলে এল . তখন ঋষির মনে ছিল প্রচন্ড রাগ সেই রাগ যেন চোখে মুখে ফুটে উঠছে ।

কোন ক্রমে বসে নিজের পরীক্ষার খাতা খুলে ঋষি দেখে -তার খাতার মধ্যে একটা লুজসিট আছে । যাতে কিছু উত্তর করে দেওয়া আছে । যে প্রশ্ন গুলো সে পারে নি তার সব উত্তর । কেউ হয় ত করে দিয়েছে তখন বিষয় টা ঋষির বুঝতে অসুবিধা হল না যে কেন ঋতিকা বাহিরে যায় নি ।


পরীক্ষা টা শেষ হল ঋতিকা আগে খাতা জমা দিয়ে সোজা বাহিরে বেরিয়ে চলে আসে । সঙ্গে সঙ্গে ঋষি ও খাতা জমা দিয়ে চলে আসে বাহিরে ।
ঋষির মনে তখন চলছিল এক ঝড় যার গতিবেগ
বাড়ছিল । ঋষি যখন বাহিরে বেরিয়ে আসে তখন দেখে -ঋতিকা মামার বাইক কে চেপে গেছে । ঋষি এটা দেখে প্রকট গলার আওয়াজ করে - তুই শোন ঋতু আমার কথা টা শোন তুই একবার শুনে যা ।এই কথা টা ওর মামা শুনে গাড়ি থেকে নেমে যায় তারপর ঋষি কে আবার প্রচুর অপমান করে ।এটা দেখে ঋতিকা একটা কথা ই বলেছিল প্রায় একশত মানুষের মাঝে -মামা তুমি চল ।এই কথা টা শুনে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারল না ঋষি ।
যাক কোন ক্রমে বন্ধু রা তাকে ঘরে দিয়ে গেল । মা বাবা ঋষির কাছে সব জানল সাথে সাথে মা কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করল ঋষি।
পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে আর কোন যোগাযোগ নেই কারো সাথে । শুধু ঋষির মনে আছে ---একটাই কথা -মামা তুমি চল ।। যেটা তার কানে বারবার বাজছিল আর মনে প্রচন্ড রাগের সৃষ্টি হচ্ছিল । এই রাগকে ঋষি না সামলাতে পেরে ঋতিকা র কিছু জিনিস ছিল সে গুলোকে ভাঙতে/পোড়াতে শুরু করল ।
ঠিক এমন সময় দেখল ঋষি -একটা চিঠি যেটা ঋতিকা তাকে ছাতিন গাছের তলায় দিয়েছিল কিন্তু ঋষি পড়ে নি সেই চিঠি । একদিকে ঋতিকা র কিছু জিনিস যখন বাড়ির মেঝেতে পুড়ছিল তখন তার মনে র রাগের মধ্যে কেউ যেন জল ঢালছিল ।
সে বাড়ির সেই মাটির মেঝে তে বসে পড়ল ।আর সেই না পড়া চিঠি টা খুলল ।দেখল----------------- --------------------------
কিছু লেখা আছে -----------------------------------------
-----------------------------জানিস ঋষি তুই আমাকে যে চিঠি টা দিয়ে ছিলিস সেটা আমি যত্ন করে রেখেছে -আমি যত্ন করে রেখেছি তোর দেওয়া প্রতিটা জিনিস । তাই ত তোর ওই পছন্দের চিঠির মধ্যে দিয়ে আমার নিজের কথা তোকে জানালাম ।
জানি তুই পড়তে গিয়ে আবেগ প্রবন হবি কিন্তু আমি তোর এই আবেগ সামলাতে পারব না রে।
জানিস ঋষি বাবা তোকে খুব ভালোবাসত ।তুই সময় টাকে যাতে ঠিক ব্যবহার করতে পারিস । তোর জন্য যে ঘড়ি টা কিনে রেখেছিল সেটা আমি নিজেই নিলাম আর তোকে দিলাম না ।থাকুক না হয় এই স্মৃতি টুকু ই ।

তুই জানিস না ঋষি বাবা মারা যাওয়ার পর মামা আর মা সবাই তোর আমার সম্পর্ক টাকে কি বাজে কথা ই না বলেছে ।
আমি যে বাড়ির একা মেয়ে এটাই বড় অপরাধ রে আমার । মামা -কথা ই কথা ই বলে ওই ছোট লোকের বাড়ির ছেলে র সাথে আমাদের ঋতিকা র কোন বন্ধু থাকবে না । তুই আমার কাছে কোন দিন ছোট ছিলিস না রে পাগল । তাই ত মা আমাকে একদিন ডেকে বলল -তোর সাথে ঋষির কি সম্পর্ক এত কথা কিসের তোদের।
তোকে কি ঋষি ভালোবাসে না তুই ঋষি কে ভালোবাসিস ।আমি সেদিন সত্যি কথা ই বলেছিলাম যে আমি ঋষি কে ভালো বাসী । এই কথা টা শোনার সাথে সাথে মা আমার ডান হাত টা টেনে মা নিজের মাথার উপর রেখে বলে - আমার মাথা র দিব্যি তোর মরা বাবার দিব্যি থাকল তুই আর ওই ছেলেটা র সাথে কোন কথা বলবি না । আমি তখন কি বলতাম বল ঋষি তুই বল । তখন ঋষি র চোখে যেন সুমুদ্র র জল ঝরছে যে জলের কোন শেষ নেই । মাটির সেই মেঝেতে পড়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে ।
আবার পড়া শুরু করল ঋষি -----আমি তোকে সত্যি খুব ভালোবাসি রে পাগল যেটা কোন দিন তোকে বলি নি । মা আমাকে আরো বলেছিল যে তোর বাবার ব্যবসা ,এত জমি জায়গা , সম্পত্তি সব ই ত তোর তাই কেন ওই ছেলেটা কে ভালোবাসতে গেলি যার নিজের অস্তিত্ব ই নেই । আজকের পর থেকে তুই যদি ওই ছেলে টা কে কথা বলিস বা মেলা- মেশা করিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি ।
আমি আমার বাবা কে হারিয়েছি আর মা কে হারাতে চাই না রে তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম যে তোর আমার মধ্যে আর কোন দিন কোন সম্পর্ক থাকবে না । হয়ত কিছু দিনের মধ্যে ই আমাকে বাড়ির লোক অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেবে ।
তুই খুব ভালো থাকিস আর শোন নিজের খেল রাখিস ।তোকে কিন্তু অনেক বড় হতে হবে ।
ঋষি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না চোখ এ জল যেন থামছে না । কিছু দেখতে ও পাচ্ছে না মাঝে মাঝে চোখের জল মুঝে আবার পড়তে শুরু করল ঋষি
। শোন না ঋষি তোর মা বাবা যদি আমার কথা জিগেস করে তুই বলবি যে ঋতিকা এখানে আর নেই ।
খুব খুব মিস করব রে তোর বাবা মা কে ।যারা আমাকে এত ভালোবেসে ছিল ।আর খুব মিস করব আমার পাগল টাকে যাকে বলতেই পারলাম না ভালোবাসি ।. I LOVE U / LOVE U পাগল । ভালো থাকিস খুব ভালো থাকিস

                                                                    ইতি     
                                                                  তোর ঋতু
                                                   
চিঠি টা যখন পড়া শেষ হল তখন ঋষি র মনে ও ছিল ----না বলতে পারা সেই ভালোবাসার যন্তনা ।
সেই দিন টা ছিল ঋষির কাছে এক ভয়ংকর দিন ।যে দিনটাই ঋষি যে দিকে তাকিয়ে ছিল দেখেছিল শুধু অন্ধকার । ঋষির মা বাহিরে থেকে দেখেছিল ছেলেটা কি ভাবে কাঁদছে । চুপ করাতে যায় নি এই ভেবে যে কাঁদলে নাকি দুঃখ কমে ।


তারপর বেশ কিছু দিন খুব যন্তনা র মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল ঋষি । NGO তে যে কাজ টা ঋষি করত। যেদিন কাজে যেত সেদিন দুঃখ টা কে কিছু ভুলে থাকতে পারত কিন্তু বাড়ি এলে ই যে জায়গা তে বসে ঋতিকা খুব হাসত সেই জায়গা দিকে তাকালে ই যেন বুক টা যেন বেদনায় ফেটে যেত ।
আসতে আসতে কাজের পরিমান টা বাড়তে লাগল আর নিজের দুঃখ টাও যেন ভুলতে শুরু করল । কিন্তু ভুলে যাব বললে কি ভোলা যায় একা মনে যখন ঋষি থাকত তখন ই ঋতিকা র কথা ভাবতে লাগত আর অজান্তেই যেন জল ঝড়ত ঋষির চোখে -------------------------------------
আদিবাসী  প্রেমের গল্প  খুব শীঘ্রই আসছে ।   

আজ তুমি নেই গল্পের প্রথম পর্ব -https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post.html

দ্বিতীয় পর্ব-https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post_29.html

No comments:

Post a Comment