Thursday, April 23, 2020

আজ তুমি নেই  পর্ব-৫


ঠিক এমন সময় দুপুর ১২টা ৪৭ একটা মেসেজ এল তার ফেসবুকে -----------
ঋষি খুলে দেখে মেসেজ টা এসে ছিল ঋতিকা ভট্টাচার্য ।
আর যার চিন্তা ঋষি করছে সে ত ঋতিকা মন্ডল কোন ছবি ও নেই ----- ---------------------------

রেল লাইন এ টিকিট কাটতে গিয়ে নিজের মনে র কোনে জমে থাকা ভালোবাসার মানুষ ঋত্বিকার সঙ্গে দেখা।
সে এখন বিবাহিত।চোখে তার ছিল অনেক জিজ্ঞাসা ,

মনের কোণে জমে থাকা অভিমানী র ছিল অনেক প্রশ্ন।

হাজারো প্রশ্ন। উত্তর নেই। চোখে চোখে হয়েছিল সেদিন হাজার কথা। মুখেছিল শুধু সৌজন্য বোধ।
তার পর আজকে এই হঠাৎ এই মেসেজ।।।।

এটা ভাবতে ভাবতে মেসেজ টা খুলল ---দেখল মেসেজে লেখা ---

""মেয়েটা দেখতে খুব মিষ্টি রে
কি নাম । তোর সাথে খুব মানিয়েছে রে ।

আমি ঋতিকা রে ।
আমার নামটা পরিবর্তন করতে হয়েছে স্বামীর পরিচয় সূত্রে ""।
চিনতে পেরেছিস । ভুলে গেছিস বল ঋষি । আমি তোর ঋতু । কেমন আছিস ..........

ঋষি---বেঁচে আছি মরিনি এখন ও । তুই কেমন আছিস ??


:::-- অনেক দিন পর দেখা হল স্টেশনে তোর চোখের সামনে চোখ রেখে কিছু বলার মত ভাষা ছিল না রে ।

::;-হা রে -৪বছর ৬মাস পর দেখা হল ।

:::- তুই এত সঠিক ভাবে মনে রেখেছিস কিভাবে

::;;;--চাইলেও ত সব ভোলা যায় না রে ঋতু ।

:::::::--বাদ দে তোর স্ত্রী কেমন আছে দেখতে কিন্তু খুব সুন্দর ।

::::--বিয়ে ই হয় নি আবার স্ত্রী --কি যে বলিস

কেন ????

ঋষি:::::-- কাউকে ভালোবেসে ছিলাম

::::--অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে কি জীবন চলে ।

::::--না চলে না জীবন জীবনের গতিতে যায় আমি আমার গতিতে ।

:::--এখন ও তুই আগের মত ই আছিস ।

:::::---হা রে কারণ বদলাবার মানে খুঁজে পাই নি তাই ।

ঋতু :::--তুই সিগারেট খাস ?

::;;-- ওটাই ত এখন ---------সঙ্গী রে ।

:::::---তোর নাম্বারটা দে পরে কথা বলব ।ভালো থাকিস ।

:ঋষি :::---হা রে তুই ও ভালো থাকিস ।

বাই বলে অফলাইন হয়ে গেল ।



এই ভাবে দুজনের কথা শুরু হল সোশ্যাল মিডিয়ায় । নিজেদের ভালো লাগা খারাপ লাগা সব বিষয় তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করত

ঋষি যেন সেই আগের দিন গুলো ফিরে পাচ্ছে । এক অসম্ভব সুখ যে ন অনুভব করছে ঋষি ।
ফেসবুক থেকে কথাপোকথন শুরু হল whatsapp এ । খুব ভালো ই চলছিল ।

কিছু দিন কথা বলার পর আবার কথা বলা বন্ধ হয়ে গেল হঠাৎ ।


আবার 10দিন হয়ে গেল ঋষি মেসেজ করেই যাচ্ছে কোন উত্তর নেই । ফোন করলেও ফোন ধরে না কেউ ।
। ঋষি আর না থাকতো পেরে এটাই শেষ মেসেজে ভেবে নিজের আবেগের কথা লিখল --

সুখ ছেড়ে দুঃখ খোঁজে ক জন
দুঃখ শুধু আমাদের খোঁজে
এটা ই বা মেনে নিতে পারে কোন সুজন।

"""জানি না কেন তোকে এত মিস করি ।
তুই অফলাইন হলে মনে হয় আমার কি যেন নেই যেটা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে । যেন আমি আমার মাঝে আমি থাকি না । 

জানি তোকে তোর স্বামী খুব ভালোবাসে । খুব পছন্দ ও করে ।করবেই বা না কেন বল ।

জানি না কি পেয়েছি তোর মাঝে তবে জানিস এই টুকু আমি জানি তুই ছাড়া আমি একা ---বড় বেশি একা । 

তোকে কাছে এসে কথা বলা বা দেখা করার জন্য কোন দিন কোন কিছু বলব না রে ।

তোকে দূর হতেই না হয় সব সুখ আমি পাব তুই শুধু কথা বলা টা বন্ধ করিস না ঋতু । 
তুই কথা না বললে যে কিছুই ভালো লাগে না রে । 


এই মেসেজ করা দুদিন হয়ে গেল কিছুই উত্তর নেই । ঋষি আবার ও ঘন ঘন ফোন খুলে দেখছে whatsapp এ মেসেজ সিন করেছে কি না । ঠিক পরের দিন সকাল এ ফোন খুলে ঋষি দেখে একটা মেসেজ ।

ঋতু করেছে ভোর 4টে 45মিনিট এ ---------

আমি এক ফসলা বৃষ্টি চাই তোকে নিয়ে ভিজব বলে ।

তোর সাথে দেখা করতে চাই চোখের জলের সেই বালিশ টা তোকে দেব বলে ।


নিচে একটা ছবি ও পাঠিয়েছে ঋতু ।

যেখানে পোষ্ট দেখা যাচ্ছে - আগুনে পুড়ে গেছে এমন একটা কাপড় । ঋষির বুঝতে অসুবিধা হল না কেন তার কল /মেসেজের উত্তর এত দিন দেয় নি ঋতু ।

ঋষি ও লিখল whatsapp এ ---

আমি তোর সাথে দেখা করতে চাই তোর চোখের জলের ওই বালিশ টা নেব বলে ।

সকাল 11টা প্রায় এমন সময় উত্তর এল --

সেই ছাতিন গাছে র নীচে দেখা করব কালকে আমি বাড়ি গিয়ে । তোর ত অফিস আছে পারবি ছুটি নিতে । যদি পারিস দেখিস ।

কোন কিছু না ভেবেই ঋষি বলে দিল হা নিশ্চয় পারব । 


বিনীতা কে ফোন করে বলে দিল ঋষি যে কালকে শরীর টা খারাপ সেই জন্য সে অফিস যেতে পারবে না ।

কত দিন পর কালকে দেখা হবে ঋতুর সাথে । সেই রাত্রে ঋষি যেন এক অলীক ভাবনায় ডুবে যাচ্ছে । চোখে তার ঘুম নেই ।

সঙ্গে সঙ্গে এটাও মনে হচ্ছে ঋষির যে -ঋতুর সাথে এমন কিছু একটা হয়েছে না হলে আগুনে পোড়া কাপড় ছবি কেন পাঠাল ।
 শুধু এই চিন্তা টাই তাকে যেন ঘুমোতে দিচ্ছে না ।
বহুবিধ প্রশ্ন যেন তার মনে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে ।


পরের দিন সকালে উঠে ঋষি বাড়ির যাবতীয় কাজ করে ঠিক 11 টা হবে এমন সময় গিয়ে পৌঁছালো সেই ছাতিন গাছে নীচে ।

দেখে ছাতিন গাছ টা কত বড় হয়ে গেছে ।
সেখানে গিয়ে তার সব পুরোনো স্মৃতি গুলো যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে ।

গাছে র নিচের দিকে যেখানে তাদের দুজনের নাম লেখা ছিল খোদাই করে ।
সেই জায়গা টা যেন মিলিয়ে গেছে শুধু রয়েছে ঋষি র - ঋ আর ঋতিকা র - ঋতি আর যে +চিন্হ টা ছিল সেটা যে -- বিয়োগ চিন্হ হয়ে গেছে ।
এটা দেখে ঋষি মনে মনে ভাবতে লাগল যে -গাছ টা ও বুঝি জেনে গেছে তাদের সম্পর্কে র পরিণতি টা আজ কোন জায়গায় ।

এটা ভাবছে ঠিক এমন সময় আগমন হল -ঋতিকা র ।
পরনে ছিল সেই চুড়িদার । যে চুরিদারের কালার টা ঋষি খুব পছন্দ করত ।
চুল গুলো ছিল যেন এলোমেলো ।বাম হাতে একটা ছোট ব্যাগ । ডানহাতে স্মার্টফোন ।

ঋতিকা এসে মৃদু স্বরে বলল - ------

:::-ভালো আছিস .মা বাবা কেমন আছে ?

:::--ভালো আছে মা বাবা ।তোর মা কেমন আছে ।

:::--ভালো রে । বলে ঋষির চোখের দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল ঋতিকা ।

::: --কাঁদিস না কি হয়েছে সেটা বল ..........

এই কথা টা বলতেই ঋষির ডান হাত টা ধরে চুরিদারের পিঠের চেন টা খুলতে বলে ঋতিকা ।

চেনটা খুলে ই ঋষির চোখের জল আর আবেগ মিলেমিশে একা কার হয়ে গেল যার প্রতিটি ফোটা গিয়ে পড়ল পিঠে লাল কালসিটে দাগের উপর ।

ঋতিকা::--তুই বলছিলিস না আমি ভালো আছি স্বামী কে নিয়ে খুব আনন্দে সংসার করছি দেখ ভালো করে দেখ এটা আমার স্বামী আমাকে উপহার দিয়েছে । দোষ টা কি জানিস ঋষি-


যে লোভে আমাকে বিয়ে করেছিল সেটা পাই নি বলে ।
মা মামা এক সাথে যুক্তি করে আমার বিয়ে দিয়েছিল
যাতে আমাদের সম্পত্তি পুরো টা গ্রাস করতে পারে মামা । আর কিছু আমায় জিগেস করিস না । ঋষির দুটো হাত ধরে -আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে আমি আর পারছি না ওখানে থাকতে । কালকে ভেবে ছিলাম নিজেকে শেষ করে দেব কিন্তু এত সহজে আমাকে মরতে দেবে না বিধাতা । এই জন্য ত আর মরা হল না রে ।

এই সমস্ত কথা গুলো শুনে ঋষি নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারছে না ।

ঋষি নিজের মনে র আবেগের কথা বলতে যাবে ঠিক এমন সময় বাড়ি থেকে ফোন ।

ঋষির মা --কোথায় আছিস তোর বাবার পায়ের ব্যথা টা খুব বেড়েছে তাড়াতাড়ি আই ।


এই কথা গুলো শুনে ঋতিকা ও তার বাড়ি আসতে চাইল ।
ঋষি ও ঋতিকা দুজনে ই ঋষির বাড়ি এল । 

বাড়ি ঢুকবে এমন সময় দেখে ঋষি -একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে যে গাড়িটা ঋষির বাবা কে নিয়ে যাবে বলে ।

 এই গাড়িটা কে এনেছে আমি ত গাড়ি বলি নি এটা ভাবতে ভাবতে ঋষি ঘরে ঢুকল ।

ঘরে ঢুকেই দেখল --বিনীতা ............

(যাকে মিথ্যা বলেছিল )
আপনাদের সাথে পরের পর্বে আবার দেখা হবে খুব শীঘ্রই।


ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন নিজের শরীরের খেল রাখবেন ।


                                   ধন্যবাদ 



Thursday, April 9, 2020

অজানা প্রেম কাহিনী 

আজ তুমি নেই- পর্ব-৪


ভুলে যাব বললে কি সত্যি ভোলা যায় ।
ঋষি একদিন অফিস থেকে বাড়িতে এসে বসে ব্যাগ টা রাখে জল খাবে এমন সময় হঠ্যাৎ চোখ পড়ে তার সেই পুরনো ব্যাট বল ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা র সেই কার্ডর উপর যে গুলো তাকে ঋতিকা দিয়েছিল । ঋষি যেন হঠাৎ হারিয়ে গেল নিমেষের মধ্যে ।নিজের অজান্তেই চোখে ভেসে উঠছে পুরোনো স্মৃতি ।

এখন প্রায় কয়েকবছর হয়ে গেল ঋতিকা র কোন খবর নেই ।
শেষ দেখা হয়েছিল তাদের ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট এ দিনে সঙ্গে ছিল তার মামা ।সেদিন শুধু একটা কথা ই মামার সামনে সে বলেছিল -1st ক্লাস ত পেলি পড়াশুনা টা ছাড়বি না বুঝলি। তারপর অর্ষু সজল চোখ সেদিন বিদায় দিয়েছিল।

হঠাৎ ঋষির মা -----খেয়ে যা রে ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ঋষির ভোম টা গেল ভেঙে । সে দেখে নিজের অজান্তেই চোখে তার জল পড়তে শুরু করেছে ।

ঋষির এখন একা একা থাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে পাশে -কেউ-থাকলো- বা- না -থাকল ।
কিন্তু মেঘলা দিনে শরীর খারাপ বা মন খারাপের সেই বিকেলে আজ ও তাঁর মনে পড়ে --------
সেই হাতে হাত রেখে বিকেলে বেড়াতে যাওয়া ,

ছুটি গিয়ে ছাতিন গাছের নিচে গল্প করা ,,,,,,

বা মিথ্যা অজুহাতে তার হাতে হাত পর্শ করা

,বা সেই যখন খুব কান্না পেলে জড়িয়ে ধরে নিজের সব অভাব অভিযোগের কথা বলা ।

কিন্তু আজ এখন সে সব অতীত ।স্পীড আছে জীবনে কিন্তু স্পীড বেকার টা সে বাদ দিয়ে দিয়েছে ।

ঋষির কাছে খবর এল -কলকাতা যেতে হবে তাকে অফিসের কাজের জন্য ।
তার সাথে যাবে বিনীতা নামে সেই মেয়েটি যার সাথে ইদানিং খুব ভালো বন্ধুর সম্পর্ক শুরু হয়েছে ঋষির ।
একদিকে কাজের চাপ অন্য দিকে বিনীতা র সাথে বন্ধু এই সবের মাঝে ঋষি ভুলে থাকত তার সেই পুরোনো স্মৃতি ।

ঋষি আর বিনীতা দু জন ই রওনা দিল অফিসের কাজের জন্য । ট্রেনে উঠে পাশা পাশি বসে যেতে যেতে ঋষির চোখে ভেসে উঠছে আবার ও সেই একসাথে পরীক্ষা দিতে যাওয়া -সব --স্মৃতি -
ঝাল মুড়ি খাওয়া , ,,,,,,,,,,,,
একটা রুল কিনে সেটাকে ভেঙে দুজনে নিয়ে দুষ্টমি করা ।

বিনীতা হঠাৎ বলে উঠল ---কি ভাবছেন আর কত সময় লাগবে পৌঁছাতে।
এইভাবে তারা কিছুটা কথা বলতে বলতে পোঁছে গেল কলকাতায় ।

সেখানে সব কাজ সেরে রাতে উঠল তারা একটা হোটেলে । বিনীতা বলল যখন আপনি বাহিরে যাবেন তখন ডাকবেন আমি একটু যাব ।

হোটেলে গিয়ে ফ্রেস হয়ে তারা বেরিয়ে পড়ল । দুজনে কলকাতার সেই জনসমুদ্রে র রাস্তায় ।পাশা পাশি একসাথে হাঁটছে সে সময় ঋষি র মনে এক অদ্ভূত আবেগ দেখা দিয়েছে কিছু ক্ষনের জন্য যেন মনে হচ্ছে তার ঋতিকা যেন তার পাশে হাঁটছে নিজের সব যোগ -বিয়োগ -অভিযোগ তাকে বলছে ।
নিজের মনের মধ্যে আর কথা গুলকে না রাখতে পেরে বিনীতা কে বলতে শুরু করল ---
ঋতিকা র কথা ।

ঋতিকা র কথা জানার পর বিনীতা বলল ---তাহলে কি আপনি এখন ও জানেন না ঋতিকা এখন কোথায় ।
সে কেমন আছে তার বিয়ে হয়ে গেছে কি না -

এই সব প্রশ্নের উত্তর জানাল ঋষি ঘাড় নেড়ে --যে -- না সে জানে না ।
বিনীতা ও ঋষি দুজনে ই রাস্তায় কথা বলতে বলতে ফিরল তারা হোটেলে ।

পরের দিন সকাল হল ব্রেকফাস্ট করবে ঋষি বসে আছে বিনীতার জন্য অপেক্ষা করছে । কিন্তু আসছে না ।

10মিনিট হয়ে গেল ।
কিছুক্ষণ পর বিনীতা এল তারা ব্রেকফাস্ট করে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি রওনা দিল বাড়ির উদ্দেশে ।ট্রেন টা আর পাবে কিনা জানা নেই যেহেতু দেরি হয়ে গেছে অনেকটা ।
তারা স্টেশনে এসে ঋষি বলল বিনীতা কে যে আপনি এখানে একটু বসেন আমি টিকিট টা কেটে নিয়ে আসি ।

তাড়াতাড়ি টিকিট টা কেটে নিয়ে দৌড়ে আসছে ঠিক এমন সময় তার চোখ পড়ে সামনের 9নাম্বার প্লাটফর্মে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে - লালশাড়ি পড়ে একহাতে একটা ফোন আর অন্য হাতের আঙ্গুল ধরে আছে একটা খুব সুন্দর দেখতে বাচ্চা মেয়ে ।

চিনতে তার অসুবিধা হচ্ছে না একেবারেই ।তারসাথে আজ কত দিন পর দেখা ।সময় চলে গেছে অনেক ।জানি আজ তার অন্য সংসার আছে ।

তার দৌড় থেমে গেল নিমেষের জন্য সে ভুলে গেল তার জন্য অন্য কেউ অপেক্ষা করছে ।
ঋষি ভাবছে গিয়ে কি কথা বলব :::::::::::::::
বেপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না ত ::::::::::::
কিন্তু এত দিনের সম্পর্ক কি করি ?

6নাম্বারে না গিয়ে ঋষি এখন সে দাঁড়িয়ে আছে 9নাম্বার প্লাটফর্ম এ । ঋতিকা দাঁড়িয়ে আছে লাল শাড়ি পড়ে ...............................
আঁচল তুলেছে মাথায় ..................
মনে হল যেন কালো রঙের এক গভীর দূরত্ব ঘনিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।

ঋতিকা র চোখে চোখ পড়তেই মাথা নেড়ে যেন ডাক দিল .ঋষি ঋতিকা র সামনে গেল ঠিক ই কিন্তু মুখে কোন কথা নেই ।
-----যেন আর কিছু তেই সরছে না চোখে চোখ । শুধু চোখ যেন কিছু বলছে । কিছু খন পর একটা অনেক পরিচিত কন্ঠ বলে উঠল -

----------কেমন আছিস ,
-----------হ্যাঁ ভালো আছি
----- তুই ভালো আছিস ---- ইত্যাদি ।
------ মুখটা ঘুরিয়ে মেয়েদিকে তাকিয়ে মুখের ইশারা টা বুঝিয়ে দিল -
কেন এত কথা ,এর থেকে ভালো নয় কি আমার চুপ করে থাকাটা ।


---- কিছুক্ষন পর বিনীতা খুঁজতে খুঁজতে এল ঋষির কাছে -বলল তার অভিযোগ ।বিনীতা র বুঝতে অসুবিধা হল না এটাই সেই ঋতিকা ।


বিনীতা কে দেখে ঋতিকা -বলে উঠল --
আমাকে যেতে হবে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে ।

আর কোন কথা না বলেই ঋতিকা ওখান থেকে চলে গেল ।

ঋষি কে যেন এক প্রচন্ড হতাশা গ্রাস করছিল ।মনে অনেক প্রশ্ন ছিল কোন উত্তর ই পাই নি সে ।
হতাশা গ্রস্ত মনে ঋতিকা র প্রতি একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বিনিতার সাথে ট্রেনে উঠল ।ট্রেনে একা মনে বসে অখিল চিন্তার ভাণ্ডারে যেন হারিয়ে গেল ।বিনীতা বারবার বোঝাবার চেষ্টা করল কিন্তু ঋষির মন যেন বুঝতে চায় না । এই ভাবেই একরাশ ক্ষোভ নিয়ে ঋষি বাড়ি ফিরল । আবার পুরোনো ক্ষত টা  যেন খুব জাগ্র ত হয়ে উঠছে।

দুইদিন এই ভাবেই চলে গেল কোন কাজেই মন বসে না ।বিনীতা কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসে ঋষি কে বোঝাই । কিছুটা হলেও বিনীতা তার মনের অবস্থা বুঝেছিল ।
ঠিক দুই সপ্তাহ পার হল এখন ঋষি কাজে র মধ্যে নিজেকে ভুলিয়ে রেখেছে ।

ঠিক এমন সময় দুপুর 12টা 47 একটা মেসেজ এল তার ফেসবুকে -----------
মেসেজ টা এসে ছিল ঋতিকা ভট্টাচার্য ।
আর যার চিন্তা ঋষি করছে সে ত ঋতিকা মন্ডল ডিপি তে কোন ছবি ও নেই  ---------------------------

আগের পর্ব গুলো দেখার জন্য লিংক দেওয়া হল ---
প্রথম পর্ব
https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post.html
দ্বিতীয় পর্ব-https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post_29.html
তৃতীয়
https://sristiproyas.blogspot.com/2020/04/blog-post.html

বাকি টা পরের পর্বে ----দেখা হবে আবার আপনাদের সাথে  ।

                                ধন্যবাদ 






Friday, April 3, 2020

আজ তুমি নেই (পার্ট-৩)

আজ তুমি নেই (পার্ট-৩)


ঋষি -ঋতিকা কে ব-লে যখন পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে এল তখন ঋষির মনে ছিল অনেক আশা ।কিন্তু সে মিনিটের পর মিনিট অপেক্ষা করছে ঋতিকা এল না । ----------
প্রায় ১০মিনিট হয়ে গেছে তখন ঋষি না থাকতে পেরে পরীক্ষার হলে চলে এল . তখন ঋষির মনে ছিল প্রচন্ড রাগ সেই রাগ যেন চোখে মুখে ফুটে উঠছে ।

কোন ক্রমে বসে নিজের পরীক্ষার খাতা খুলে ঋষি দেখে -তার খাতার মধ্যে একটা লুজসিট আছে । যাতে কিছু উত্তর করে দেওয়া আছে । যে প্রশ্ন গুলো সে পারে নি তার সব উত্তর । কেউ হয় ত করে দিয়েছে তখন বিষয় টা ঋষির বুঝতে অসুবিধা হল না যে কেন ঋতিকা বাহিরে যায় নি ।


পরীক্ষা টা শেষ হল ঋতিকা আগে খাতা জমা দিয়ে সোজা বাহিরে বেরিয়ে চলে আসে । সঙ্গে সঙ্গে ঋষি ও খাতা জমা দিয়ে চলে আসে বাহিরে ।
ঋষির মনে তখন চলছিল এক ঝড় যার গতিবেগ
বাড়ছিল । ঋষি যখন বাহিরে বেরিয়ে আসে তখন দেখে -ঋতিকা মামার বাইক কে চেপে গেছে । ঋষি এটা দেখে প্রকট গলার আওয়াজ করে - তুই শোন ঋতু আমার কথা টা শোন তুই একবার শুনে যা ।এই কথা টা ওর মামা শুনে গাড়ি থেকে নেমে যায় তারপর ঋষি কে আবার প্রচুর অপমান করে ।এটা দেখে ঋতিকা একটা কথা ই বলেছিল প্রায় একশত মানুষের মাঝে -মামা তুমি চল ।এই কথা টা শুনে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারল না ঋষি ।
যাক কোন ক্রমে বন্ধু রা তাকে ঘরে দিয়ে গেল । মা বাবা ঋষির কাছে সব জানল সাথে সাথে মা কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করল ঋষি।
পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে আর কোন যোগাযোগ নেই কারো সাথে । শুধু ঋষির মনে আছে ---একটাই কথা -মামা তুমি চল ।। যেটা তার কানে বারবার বাজছিল আর মনে প্রচন্ড রাগের সৃষ্টি হচ্ছিল । এই রাগকে ঋষি না সামলাতে পেরে ঋতিকা র কিছু জিনিস ছিল সে গুলোকে ভাঙতে/পোড়াতে শুরু করল ।
ঠিক এমন সময় দেখল ঋষি -একটা চিঠি যেটা ঋতিকা তাকে ছাতিন গাছের তলায় দিয়েছিল কিন্তু ঋষি পড়ে নি সেই চিঠি । একদিকে ঋতিকা র কিছু জিনিস যখন বাড়ির মেঝেতে পুড়ছিল তখন তার মনে র রাগের মধ্যে কেউ যেন জল ঢালছিল ।
সে বাড়ির সেই মাটির মেঝে তে বসে পড়ল ।আর সেই না পড়া চিঠি টা খুলল ।দেখল----------------- --------------------------
কিছু লেখা আছে -----------------------------------------
-----------------------------জানিস ঋষি তুই আমাকে যে চিঠি টা দিয়ে ছিলিস সেটা আমি যত্ন করে রেখেছে -আমি যত্ন করে রেখেছি তোর দেওয়া প্রতিটা জিনিস । তাই ত তোর ওই পছন্দের চিঠির মধ্যে দিয়ে আমার নিজের কথা তোকে জানালাম ।
জানি তুই পড়তে গিয়ে আবেগ প্রবন হবি কিন্তু আমি তোর এই আবেগ সামলাতে পারব না রে।
জানিস ঋষি বাবা তোকে খুব ভালোবাসত ।তুই সময় টাকে যাতে ঠিক ব্যবহার করতে পারিস । তোর জন্য যে ঘড়ি টা কিনে রেখেছিল সেটা আমি নিজেই নিলাম আর তোকে দিলাম না ।থাকুক না হয় এই স্মৃতি টুকু ই ।

তুই জানিস না ঋষি বাবা মারা যাওয়ার পর মামা আর মা সবাই তোর আমার সম্পর্ক টাকে কি বাজে কথা ই না বলেছে ।
আমি যে বাড়ির একা মেয়ে এটাই বড় অপরাধ রে আমার । মামা -কথা ই কথা ই বলে ওই ছোট লোকের বাড়ির ছেলে র সাথে আমাদের ঋতিকা র কোন বন্ধু থাকবে না । তুই আমার কাছে কোন দিন ছোট ছিলিস না রে পাগল । তাই ত মা আমাকে একদিন ডেকে বলল -তোর সাথে ঋষির কি সম্পর্ক এত কথা কিসের তোদের।
তোকে কি ঋষি ভালোবাসে না তুই ঋষি কে ভালোবাসিস ।আমি সেদিন সত্যি কথা ই বলেছিলাম যে আমি ঋষি কে ভালো বাসী । এই কথা টা শোনার সাথে সাথে মা আমার ডান হাত টা টেনে মা নিজের মাথার উপর রেখে বলে - আমার মাথা র দিব্যি তোর মরা বাবার দিব্যি থাকল তুই আর ওই ছেলেটা র সাথে কোন কথা বলবি না । আমি তখন কি বলতাম বল ঋষি তুই বল । তখন ঋষি র চোখে যেন সুমুদ্র র জল ঝরছে যে জলের কোন শেষ নেই । মাটির সেই মেঝেতে পড়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে ।
আবার পড়া শুরু করল ঋষি -----আমি তোকে সত্যি খুব ভালোবাসি রে পাগল যেটা কোন দিন তোকে বলি নি । মা আমাকে আরো বলেছিল যে তোর বাবার ব্যবসা ,এত জমি জায়গা , সম্পত্তি সব ই ত তোর তাই কেন ওই ছেলেটা কে ভালোবাসতে গেলি যার নিজের অস্তিত্ব ই নেই । আজকের পর থেকে তুই যদি ওই ছেলে টা কে কথা বলিস বা মেলা- মেশা করিস তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি ।
আমি আমার বাবা কে হারিয়েছি আর মা কে হারাতে চাই না রে তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম যে তোর আমার মধ্যে আর কোন দিন কোন সম্পর্ক থাকবে না । হয়ত কিছু দিনের মধ্যে ই আমাকে বাড়ির লোক অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেবে ।
তুই খুব ভালো থাকিস আর শোন নিজের খেল রাখিস ।তোকে কিন্তু অনেক বড় হতে হবে ।
ঋষি আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না চোখ এ জল যেন থামছে না । কিছু দেখতে ও পাচ্ছে না মাঝে মাঝে চোখের জল মুঝে আবার পড়তে শুরু করল ঋষি
। শোন না ঋষি তোর মা বাবা যদি আমার কথা জিগেস করে তুই বলবি যে ঋতিকা এখানে আর নেই ।
খুব খুব মিস করব রে তোর বাবা মা কে ।যারা আমাকে এত ভালোবেসে ছিল ।আর খুব মিস করব আমার পাগল টাকে যাকে বলতেই পারলাম না ভালোবাসি ।. I LOVE U / LOVE U পাগল । ভালো থাকিস খুব ভালো থাকিস

                                                                    ইতি     
                                                                  তোর ঋতু
                                                   
চিঠি টা যখন পড়া শেষ হল তখন ঋষি র মনে ও ছিল ----না বলতে পারা সেই ভালোবাসার যন্তনা ।
সেই দিন টা ছিল ঋষির কাছে এক ভয়ংকর দিন ।যে দিনটাই ঋষি যে দিকে তাকিয়ে ছিল দেখেছিল শুধু অন্ধকার । ঋষির মা বাহিরে থেকে দেখেছিল ছেলেটা কি ভাবে কাঁদছে । চুপ করাতে যায় নি এই ভেবে যে কাঁদলে নাকি দুঃখ কমে ।


তারপর বেশ কিছু দিন খুব যন্তনা র মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল ঋষি । NGO তে যে কাজ টা ঋষি করত। যেদিন কাজে যেত সেদিন দুঃখ টা কে কিছু ভুলে থাকতে পারত কিন্তু বাড়ি এলে ই যে জায়গা তে বসে ঋতিকা খুব হাসত সেই জায়গা দিকে তাকালে ই যেন বুক টা যেন বেদনায় ফেটে যেত ।
আসতে আসতে কাজের পরিমান টা বাড়তে লাগল আর নিজের দুঃখ টাও যেন ভুলতে শুরু করল । কিন্তু ভুলে যাব বললে কি ভোলা যায় একা মনে যখন ঋষি থাকত তখন ই ঋতিকা র কথা ভাবতে লাগত আর অজান্তেই যেন জল ঝড়ত ঋষির চোখে -------------------------------------
আদিবাসী  প্রেমের গল্প  খুব শীঘ্রই আসছে ।   

আজ তুমি নেই গল্পের প্রথম পর্ব -https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post.html

দ্বিতীয় পর্ব-https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post_29.html