Thursday, April 9, 2020

অজানা প্রেম কাহিনী 

আজ তুমি নেই- পর্ব-৪


ভুলে যাব বললে কি সত্যি ভোলা যায় ।
ঋষি একদিন অফিস থেকে বাড়িতে এসে বসে ব্যাগ টা রাখে জল খাবে এমন সময় হঠ্যাৎ চোখ পড়ে তার সেই পুরনো ব্যাট বল ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা র সেই কার্ডর উপর যে গুলো তাকে ঋতিকা দিয়েছিল । ঋষি যেন হঠাৎ হারিয়ে গেল নিমেষের মধ্যে ।নিজের অজান্তেই চোখে ভেসে উঠছে পুরোনো স্মৃতি ।

এখন প্রায় কয়েকবছর হয়ে গেল ঋতিকা র কোন খবর নেই ।
শেষ দেখা হয়েছিল তাদের ফাইনাল ইয়ারের রেজাল্ট এ দিনে সঙ্গে ছিল তার মামা ।সেদিন শুধু একটা কথা ই মামার সামনে সে বলেছিল -1st ক্লাস ত পেলি পড়াশুনা টা ছাড়বি না বুঝলি। তারপর অর্ষু সজল চোখ সেদিন বিদায় দিয়েছিল।

হঠাৎ ঋষির মা -----খেয়ে যা রে ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ঋষির ভোম টা গেল ভেঙে । সে দেখে নিজের অজান্তেই চোখে তার জল পড়তে শুরু করেছে ।

ঋষির এখন একা একা থাকতে অভ্যাস হয়ে গেছে পাশে -কেউ-থাকলো- বা- না -থাকল ।
কিন্তু মেঘলা দিনে শরীর খারাপ বা মন খারাপের সেই বিকেলে আজ ও তাঁর মনে পড়ে --------
সেই হাতে হাত রেখে বিকেলে বেড়াতে যাওয়া ,

ছুটি গিয়ে ছাতিন গাছের নিচে গল্প করা ,,,,,,

বা মিথ্যা অজুহাতে তার হাতে হাত পর্শ করা

,বা সেই যখন খুব কান্না পেলে জড়িয়ে ধরে নিজের সব অভাব অভিযোগের কথা বলা ।

কিন্তু আজ এখন সে সব অতীত ।স্পীড আছে জীবনে কিন্তু স্পীড বেকার টা সে বাদ দিয়ে দিয়েছে ।

ঋষির কাছে খবর এল -কলকাতা যেতে হবে তাকে অফিসের কাজের জন্য ।
তার সাথে যাবে বিনীতা নামে সেই মেয়েটি যার সাথে ইদানিং খুব ভালো বন্ধুর সম্পর্ক শুরু হয়েছে ঋষির ।
একদিকে কাজের চাপ অন্য দিকে বিনীতা র সাথে বন্ধু এই সবের মাঝে ঋষি ভুলে থাকত তার সেই পুরোনো স্মৃতি ।

ঋষি আর বিনীতা দু জন ই রওনা দিল অফিসের কাজের জন্য । ট্রেনে উঠে পাশা পাশি বসে যেতে যেতে ঋষির চোখে ভেসে উঠছে আবার ও সেই একসাথে পরীক্ষা দিতে যাওয়া -সব --স্মৃতি -
ঝাল মুড়ি খাওয়া , ,,,,,,,,,,,,
একটা রুল কিনে সেটাকে ভেঙে দুজনে নিয়ে দুষ্টমি করা ।

বিনীতা হঠাৎ বলে উঠল ---কি ভাবছেন আর কত সময় লাগবে পৌঁছাতে।
এইভাবে তারা কিছুটা কথা বলতে বলতে পোঁছে গেল কলকাতায় ।

সেখানে সব কাজ সেরে রাতে উঠল তারা একটা হোটেলে । বিনীতা বলল যখন আপনি বাহিরে যাবেন তখন ডাকবেন আমি একটু যাব ।

হোটেলে গিয়ে ফ্রেস হয়ে তারা বেরিয়ে পড়ল । দুজনে কলকাতার সেই জনসমুদ্রে র রাস্তায় ।পাশা পাশি একসাথে হাঁটছে সে সময় ঋষি র মনে এক অদ্ভূত আবেগ দেখা দিয়েছে কিছু ক্ষনের জন্য যেন মনে হচ্ছে তার ঋতিকা যেন তার পাশে হাঁটছে নিজের সব যোগ -বিয়োগ -অভিযোগ তাকে বলছে ।
নিজের মনের মধ্যে আর কথা গুলকে না রাখতে পেরে বিনীতা কে বলতে শুরু করল ---
ঋতিকা র কথা ।

ঋতিকা র কথা জানার পর বিনীতা বলল ---তাহলে কি আপনি এখন ও জানেন না ঋতিকা এখন কোথায় ।
সে কেমন আছে তার বিয়ে হয়ে গেছে কি না -

এই সব প্রশ্নের উত্তর জানাল ঋষি ঘাড় নেড়ে --যে -- না সে জানে না ।
বিনীতা ও ঋষি দুজনে ই রাস্তায় কথা বলতে বলতে ফিরল তারা হোটেলে ।

পরের দিন সকাল হল ব্রেকফাস্ট করবে ঋষি বসে আছে বিনীতার জন্য অপেক্ষা করছে । কিন্তু আসছে না ।

10মিনিট হয়ে গেল ।
কিছুক্ষণ পর বিনীতা এল তারা ব্রেকফাস্ট করে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি রওনা দিল বাড়ির উদ্দেশে ।ট্রেন টা আর পাবে কিনা জানা নেই যেহেতু দেরি হয়ে গেছে অনেকটা ।
তারা স্টেশনে এসে ঋষি বলল বিনীতা কে যে আপনি এখানে একটু বসেন আমি টিকিট টা কেটে নিয়ে আসি ।

তাড়াতাড়ি টিকিট টা কেটে নিয়ে দৌড়ে আসছে ঠিক এমন সময় তার চোখ পড়ে সামনের 9নাম্বার প্লাটফর্মে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে - লালশাড়ি পড়ে একহাতে একটা ফোন আর অন্য হাতের আঙ্গুল ধরে আছে একটা খুব সুন্দর দেখতে বাচ্চা মেয়ে ।

চিনতে তার অসুবিধা হচ্ছে না একেবারেই ।তারসাথে আজ কত দিন পর দেখা ।সময় চলে গেছে অনেক ।জানি আজ তার অন্য সংসার আছে ।

তার দৌড় থেমে গেল নিমেষের জন্য সে ভুলে গেল তার জন্য অন্য কেউ অপেক্ষা করছে ।
ঋষি ভাবছে গিয়ে কি কথা বলব :::::::::::::::
বেপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে না ত ::::::::::::
কিন্তু এত দিনের সম্পর্ক কি করি ?

6নাম্বারে না গিয়ে ঋষি এখন সে দাঁড়িয়ে আছে 9নাম্বার প্লাটফর্ম এ । ঋতিকা দাঁড়িয়ে আছে লাল শাড়ি পড়ে ...............................
আঁচল তুলেছে মাথায় ..................
মনে হল যেন কালো রঙের এক গভীর দূরত্ব ঘনিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।

ঋতিকা র চোখে চোখ পড়তেই মাথা নেড়ে যেন ডাক দিল .ঋষি ঋতিকা র সামনে গেল ঠিক ই কিন্তু মুখে কোন কথা নেই ।
-----যেন আর কিছু তেই সরছে না চোখে চোখ । শুধু চোখ যেন কিছু বলছে । কিছু খন পর একটা অনেক পরিচিত কন্ঠ বলে উঠল -

----------কেমন আছিস ,
-----------হ্যাঁ ভালো আছি
----- তুই ভালো আছিস ---- ইত্যাদি ।
------ মুখটা ঘুরিয়ে মেয়েদিকে তাকিয়ে মুখের ইশারা টা বুঝিয়ে দিল -
কেন এত কথা ,এর থেকে ভালো নয় কি আমার চুপ করে থাকাটা ।


---- কিছুক্ষন পর বিনীতা খুঁজতে খুঁজতে এল ঋষির কাছে -বলল তার অভিযোগ ।বিনীতা র বুঝতে অসুবিধা হল না এটাই সেই ঋতিকা ।


বিনীতা কে দেখে ঋতিকা -বলে উঠল --
আমাকে যেতে হবে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে ।

আর কোন কথা না বলেই ঋতিকা ওখান থেকে চলে গেল ।

ঋষি কে যেন এক প্রচন্ড হতাশা গ্রাস করছিল ।মনে অনেক প্রশ্ন ছিল কোন উত্তর ই পাই নি সে ।
হতাশা গ্রস্ত মনে ঋতিকা র প্রতি একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বিনিতার সাথে ট্রেনে উঠল ।ট্রেনে একা মনে বসে অখিল চিন্তার ভাণ্ডারে যেন হারিয়ে গেল ।বিনীতা বারবার বোঝাবার চেষ্টা করল কিন্তু ঋষির মন যেন বুঝতে চায় না । এই ভাবেই একরাশ ক্ষোভ নিয়ে ঋষি বাড়ি ফিরল । আবার পুরোনো ক্ষত টা  যেন খুব জাগ্র ত হয়ে উঠছে।

দুইদিন এই ভাবেই চলে গেল কোন কাজেই মন বসে না ।বিনীতা কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসে ঋষি কে বোঝাই । কিছুটা হলেও বিনীতা তার মনের অবস্থা বুঝেছিল ।
ঠিক দুই সপ্তাহ পার হল এখন ঋষি কাজে র মধ্যে নিজেকে ভুলিয়ে রেখেছে ।

ঠিক এমন সময় দুপুর 12টা 47 একটা মেসেজ এল তার ফেসবুকে -----------
মেসেজ টা এসে ছিল ঋতিকা ভট্টাচার্য ।
আর যার চিন্তা ঋষি করছে সে ত ঋতিকা মন্ডল ডিপি তে কোন ছবি ও নেই  ---------------------------

আগের পর্ব গুলো দেখার জন্য লিংক দেওয়া হল ---
প্রথম পর্ব
https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post.html
দ্বিতীয় পর্ব-https://sristiproyas.blogspot.com/2020/03/blog-post_29.html
তৃতীয়
https://sristiproyas.blogspot.com/2020/04/blog-post.html

বাকি টা পরের পর্বে ----দেখা হবে আবার আপনাদের সাথে  ।

                                ধন্যবাদ 






1 comment:

  1. চতুর্থ পার্ট এ - ঋষি র এর জীবনে একটু আশার আলো বান্ধবী বিনীতার এর প্রবেশ।
    রেল লাইন এ টিকিট কাটতে গিয়ে পুরাতন প্রেমিকা ঋত্বিকার সঙ্গে দেখা।
    সে এখন বিবাহিত।চোখে তার অনেক জিজ্ঞাসা ,মনের কোণে জমে থাকা অভিমানী প্রশ্ন।হাজারো প্রশ্ন।উত্তর নেই।চোখে চোখে হাজার কথা।মুখে সৌজন্য বোধ।তার পর হঠাৎ একদিন মেসেজ।।।।।কে করলো সেই অজানা মেসেজ???
    কিভাবে বিয়ে হলো ঋত্বিকার??
    এর পর কি বিনীতা এর সঙ্গে প্রেমে লিপ্ত হবে ঋষি???
    ঋষি এর জীবনে আর কি কি অপেক্ষা করছে??কি কি আশ্চর্য ময় ঘটনা।।
    এই বিষয় গুলি তে আপনারা মতামত দেবেন /
    কল্পনা ও বাস্তব এ সংমিশ্রণ গল্প যদি ভালো লাগে নিজের মতামত ব্যাপ্ত করবেন ।

    অর্ক

    ReplyDelete