আজ তুমি নেই (পার্ট-১)
আজ তুমি নেই (পার্ট-১)
---------------------------------
----------------------------------
ঋষির মনে প্রচুর প্রশ্ন সবে Hs পাস করেছে । কলেজে ভর্তি হবে -বাবা র পায়ের ব্যথা -সব দিক দিয়ে ভর্তি হবো কি হবো না।
এই রকম দু টানাই মন চলেছে । ঠিক এমন সময় পিওন কাকু ডাক দিল ঋষি কে ।এসে দেখ ল ঋষি র একটা চিঠি তাতে বলা হয়েছে আপনার পড়াশুনার টাকাটা রাইটাস এ গিয়ে নিয়ে আসতে হবে ।
ঋষির মনে আবার আশার সঞ্চার ঘটল । ঋষির প্রথম ট্রেন এ যাবে আবার অচেনা জায়গা ।
ঋষি দেখল বাবার মনে যেন একটি খুশি দেখা দিয়েছে । ছেলে আবার পড়াশুনা শুরু করতে পারবে ।
যাক ঠিক সময় ঠিক তারিখে ঋষি পোঁছে গেল রাইটাস এ ওখানে ঋষির সাথে পরিচয় হয় ঋতিকা বলে একটা মেয়ের সাথে।
তার বাড়ি ঋষির বাড়ির পাশের গ্রামে । পরিচয় হল ঋতিকা র সাথে ঋষির । কথা চলছে ঠিক এমন সময় একজন এসে বলল যাও তোমাদের ডাকছে ।দুজনে গিয়ে টাকার চেক টা একজন সনামধন্য ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়ে এলো ।
তারপর বাড়ি আসতে হবে এই চিন্তা টা ঋষি কে গ্রাস করছিল ।
ঋতিকা র সাথে ত ও র বাবা আছে আমার সাথে ত কেউ নেই ।তখন ই ঋতিকা র বাবা বলল তোমার সাথে কেউ যখন আসে নি চিন্তা করো না আমি আছি বলে আস্বস্ত করল । কোন ক্রমে বাড়ি ফিরল ঋষি ।
এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ পর আবার দেখা হল ঋষির সাথে ঋতিকা র কলেজে ।সেখানে দুজনে কথা ও হল -বাড়িতে কে কে আছে এসব ।
যত দিন যায় ঋতিকা র সাথে মেলা মেশা বাড়তে থাকে । ঋষি র টিউশন ছিল না সে পড়ত কলেজের এক মাস্টার মশাই র কাছে যে মাস্টার মশাই টাকা নিত না ।
একদিন ঋতিকা ও এসে বলল যে আমি ও পড়বো কিন্তু মাস্টার পড়তে নিল না খুব কষ্ট পেলে মনে মনে সেটা উপলব্ধি করেছিলে ঋষি । সেদিন পড়া শেষে ঋষি দেখছে ঋতিকা তার জন্য অপেক্ষা করছে ।
ঋতিকা বলল ঋষি কে যে আমাকে ত পড়তে নিল না তাই তোর নোট স গুলো আমাকে দিবি আর আমার গুলো তোকে -তোকে চিন্তা করতে হবে আমি জেরক্স করে তোকে দেব । ঋষি ও সহমত পোষণ করল । যতদিন যায় আসতে আসতে খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেল ঋষি ও ঋতিকা ।
এবার পরীক্ষা চলে আসছে আর বাকি ছিল ২৬ দিন এমন সময় ঋষির বাবার পা র ব্যথা বেড়ে যায় । অপারেশন করতে হবে এই চিন্তা টা খুব হচ্ছিল । কিন্তু বাবার কাছে যদি থাকতে হয় তাহলে সারা বছর যেটা পড়লাম সেটা কি হবে।
খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিল ঋষি । এই কথা গুলো যখন ঋতিকা জানতে পারে ---
তখন ঋষি কে ডেকে বলে তুই চিন্তা করি স তুই কেবল অনার্স টা কে ভালো করে পড় আমি পাশের বিষয় গুলো ভালো করে পড়ছি তোকে বুঝিয়ে দেব । যখন বাড়ি আসবি একটা খবর দিস কেবল ।
প্রত্যেক সপ্তাহে যখন হাসপাতাল থেকে ঋষি বাড়ি আসত তখন ই ঋতিকা পড়া বোঝাত ।এই ভাবেই চলল ।বাবার অপারেশন দিন ঠিক হল সাথে পরীক্ষা চলে এল । ভালো ভাবে অপেরাসন করে বাড়ি ফিরল আর তার পর র দিন পরীক্ষা পড়ল ।অনার্স টা খুব ভালো ভাবেই হল ।
রেজাল্ট বেরোল ঋতিকা অনার্স এ পেল 45%আর পাশে পেল 65% সেখানে ঋষির ছিল দুটো তেই 62%মত । সেদিন খুব কষ্ট হয়েছিল ঋষির কারণ সে জানে ঋতিকা রেজাল্ট কেন খারাপ হয়েছে । ঋষির বাবা অনেক টা সুস্থ হয়ে উঠল ।
ঋতিকা কয়েকবার এল ঋষির বাবা কে দেখতে ।
বাবা মা ও খুব ভালোবাসতে শুরু করল ঋতিকা কে ।
যত দিন যায় বন্ধুর সম্পর্ক টা তত বেশি একে অপরের প্রতি নিভর হয়ে পড়ে ।
টাকা যখন দরকার হবে তুই আমার কাছে নিবি পরে আমাকে দিয়ে দিবি এটাই ছিল ঋতিকা র কথা আর বাবার অপেরাসন সময় এটা ই করেছিল ঋতিকা ।
খুব ভালো ই কাটছিল ঋষির । একদিন হঠাৎ শুনতে পেল ঋষি - ঋতিকা র বাবা মারা গেছে ।
সেদিন সারাটা দিন ই ঋতিকা র পাশে ছিল ঋষি । এই ঘটনার কিছু দিন পর যখন পুরো বিষয় টা অনেকটা স্বাভাবিক ঠিক তখন ই কলেজে বলল ঋতিকা যে -তোকে কালকে একটা কথা বলবো সাথে সাথে ----------------------------------------------
ঋষির মনে যেন এক অদ্ভুত খুশি দেখা দিল । ঋষির ধারণা ছিল এবার নিশ্চয় বলবে যে ও আমাকে কত টা ভালোবাসে ।
সেদিনের রাত টা যেন কাটতেই চাই না ক খন সকাল হবে আর ঋতিকা বলবে তাকে ভালোবাসার কথা ।
ঋষির মনে যেন এক অদ্ভুত আনন্দ ।কিন্তু এই আনন্দ যে কাউকে বলার নয় ।
যাক কলেজ এ গিয়ে যেখানে প্রতিদিন বসত সেই ছাতিন গাছে র তলায় অপেক্ষা করছে ঋষি ।
সময় যাচ্ছে কিন্তু ঋতিকা আসছে না ।
অপেক্ষা করতে করতে এক সময় এল ।
আসার সাথে সাথে ই প্রচুর কথা শোনাতে লাগল ঋষি ।
এর পর প্রচন্ড কাঁদতে শুরু করল ঋতিকা ।
ঋষি বলল কি রে এর আগে ত তোকে অনেক এই রকম কথা বলেছি কই কাঁদিস নি আজ কেন কাঁদছিস ।
কিছু না বলেই
ঋতিকা -------
একটা কার্ড দেয় ঋষি কে ।
তারপর ওখান থেকে ঋতিকা ও চলে যায় ।
ছাতিন গাছ তলায় বসে বুক ডুকরে ডুকরে কাঁদতে শুরু করল ঋষি
কারণ ওই কার্ড টা ছিল :::::::::::::::::
সৃষ্টি
সকলের কাছে অনুরোধ বাড়িতে থাকুন
সুস্থ থাকুন ।
পরের পার্ট টা জন্য অপেক্ষা করেন ।
ReplyDelete