আজ তুমি নেই (পার্ট-২)
ঋষি যখন ওই কার্ড টা হাতে নিয়েছিল তখন দেখেছিল ঋতিকা র চোখে সেই কান্না ।কিন্তু কিছু না বলেই ঋতিকা চলে গেল ।কার্ড ছিল ঋষির হাতে ।
ঋষির কার্ড টা চিনতে অসুবিধা হয় নি কারণ ওই কার্ড টা ছিল -ঋষির ই কাঁড ।যে কার্ড টা ঋষি দিয়েছিল নতুন বছরের শুভেচ্ছা হিসাবে । কার্ড র উপরের খাম টা ছিল কিছু লেখা যেটা ঋষি রাত জেগে লিখেছিল ---
কি রে পাগলী দেখ তোর পাগল বন্ধু টা তোকে ঠিক মনে রেখেছে ,--তাই ভুলে নি তোকে শুভেচ্ছা জানাতে ।
ছাতিন গাছে র নীচে যখন কার্ড টা ঋষি হাতে নিয়েছিল তখন কার্ড র উপরে লেখা ছিল ---
তোর পাগলী তোকে ঠিক ই মনে রেখেছে তাই চিঠি টা তোকে লিখে দিয়েছে আর কথা আমায় বলিস না ।
আমায় কথা বলিস না শুধু এই কথা টা বলে ঋষির এক আতীয় মারা গিয়েছিল । ওই ঘটনা টা ঋষির চোখে যেন ভাসছিল আর খুব কাঁদছিল ।
ঋষি যে কাঁদছে এটা ঋতিকা পলাশ গাছের আড়ালে থেকে দেখছিল --
শেষে না থাকতে পেরে
দৌড়ে এসে ঋষির কান্না থামাই ।
ঋতিকা বলে উঠে তুই কেন কাঁদছিস আমি জানি
কাঁদিস না এমন কিছু হবে না রে পাগল ।
তুই চিঠি টা খামের ভিতর আছে খুলে দেখিস আমি এখান থেকে চলে গেলে।
ঋষির মনে আবার যেন খুশি দেখা দিল ভাবতে লাগল যে -ও চিঠিতে নিশ্চয় আমাকে জানিয়েছে ওর মনের কথা ।
ঠিক তাই হবে তুই চলে গেলেই আমি এটা খুলব।
এই বলে দুজনে ছাতিন গাছের নিচে বসে পড়ল ।
সেদিন দুজনের মধ্যে বেশ কিছু কথা আলোচনা হল ----
ঋষি কে বলল যায় হক না কেন তুই নিজের পড়াশুনা ছাড়বি না NGO তে যে কাজটা পেয়েছিস তার সাথে BA শেষে করবি MA করবি হা ।
তারপর B,ED করবি তারপর তোর ওই মাস্টার মত মাস্টার হবি বুঝলি যে মাস্টার তোকে বিনা পয়সায় পড়ায় । ঘাড় টা নেড়ে ঋষি ও সেদিন সারা দিয়েছিল ।
কি রে ঋষি আমার বাবা তোকে কি দেবে বলেছিল না আমি জানি তুই আময় লুকাছিস। বলে আবার ঋতিকা কাঁদতে শুরু করল ।
-বাবার কথা মনে পড়ে গেল বুঝি ।কাঁদিস না চ আমাদের বাড়ি যাব ।
খুব খুশি হয়ে সেদিন চলে এল ঋষির বাড়ি ।মা বাবা র সাথে সেদিন খুব খুশিতে ই ছিল ঋতিকা ।
এই খুশি তে ঋষি ভুলে গিয়েছিল চিঠি টা খুল তে
সেদিন ঋষি ওদের বাড়ি গিয়ে ঋতিকা দিয়ে এল ।তখন ও যেন ঋতিকা কিছু বলতে চাইছিল কিন্তু বলতে পারল না ।
বেশ কিছু দিন পেরিয়ে গেল ঋতিকা র আর কোন খবর নেই ।
কিছু দিন পর পর ঋষি-- ,ঋতিকা র বাড়ি গিয়ে দেখল ও বাড়িতে নেই ।জিগেস করলেও ওর মা বলতে চাইল না ।
পরের দিন আবার গেল ঋষি ওর মা কিছু তেই বলল না -রেগে গিয়ে যখন জোর গলায় বলে উঠল ঋতিকা কোথায় না জানা অবধি আমি এখন থেকে যাব না ।
তখন পাশের বাড়ির লোক জন এসে ঋষি কে বোঝাই । একজন কাকু ছিল ওর মধ্যে খুব ভালো ও ঋষি কে পাশে ডেকে এনে বলে তুমি বাড়ি যাও ।ঋতিকা র বাবা মারা যাওয়ার সাথে সাথে ই ওর মা ওকে অন্য কোথাও রেখে এসেছে ।
সেদিন ঋষির শরীরে কোন শক্তি ছিল না ।পাশে র বাড়ির কাকু বাইক এ করে ঋষি কে বাড়িতে দিয়ে যায় । ঋষির মা বাবা সব জানতে পারে ।
ঋষিকে অনেক বোঝানো হয় কিন্তু কিছু হয় না ।
পরীক্ষা ও চলে আসে দ্বিতীয় বর্ষের ।বাকি ছিল
তখন 24দিনের মত ।
হঠাৎ একদিন ফোন আসে ঋষির এক বন্ধুর ফোনে --বন্ধুর নাম ছিল রোহিত ।এই রোহিত র সাথে ই ঋতিকা র খুব ভালো বন্ধু ছিল ।কিন্তু
রোহিত ঋষি কে সহ্য করতে পারত না।
তাও রোহিত ঋষি কে বলে ঋতিকা কালকে বিকেল 5টা সময় তোর সাথে কথা বলবে ।
সেদিন ছিল শুক্রবার বিকেল 5টা সময় ফোন আসে ,ফোন টা ঋষি ধরে ।-----------------------
ভালো আছিস ,মা বাবা কেমন আছে আমি বলবো তুই শুনবি কিছু বলবি না সময় নেই বেশি ,
কন্ঠ টা ছিল যেন ভাঙা ভাঙা ।
ভালো করে পরীক্ষা দিতে হবে বুঝলি আগের বছরের মতো ই তুই অনার্স টা ভালো করে পরিস,
হা ।
ঋষি তখন আর নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারছে না ।
ফোন টা কেটে গেল দুবার রোহিত চেষ্টা করল কিন্তু কোন ফল হল না ।
পরীক্ষার দিন চলে এল আর 4দিন বাকি আছে এমন সময় ঋষির মনে হল যায় ওদের বাড়ি যদি
ঋতিকা এসেছে ।
চলে গেল ঋতিকা র বাড়ি
ওদের বাড়ি যেতেই - ঋতিকা র মামা ঋষি কে প্রচুর অপমান করে তাড়িয়ে দিল ।
সেদিন ঋষি কোন ক্রমে বাড়ি ফিরল । বাকি ছিল 3দিন ।
পরের দিন রোহিত খবর দিল কালকে ঋতিকা ফোন করবে ।
ঋষি পড়তে বসছে কিন্তু পড়তে পাচ্ছে না ।পরের দিন ফোন এল --------------------------------------------
আমাদের বাড়ি কোন ভাবেই আর যাবি না
।মামার সাথে কোন রকম ঝগড়া করবি না আমার
দিব্যি থাকল ।
এই বলে আবার ফোন কেটে দিল ।চেষ্টা করা হল কিন্তু কোন ফল হল না ।
এবার ফোন করল কিন্তু কন্ঠ টা ছিল প্রচুর রাগের।
পরের দিন পরীক্ষা দুজনের সিট সামনে পিছনে ।
ঋষি কথা বলতে চাইল কিন্তু ঋতিকা বলল আগে -----পরীক্ষা দে ভালো করে তারপর কথা বলবো ।
পরীক্ষা হয়ে গেল শেষে কথা বলতে চাইল পারল না বলতে তার মামা এসে ওকে নিয়ে গেল ।
অনার্সের দুদিন পর আবার পরীক্ষা --ঋষি মনে স্থির করে নিয়েছিল কথা বলবেই ।সেদিন পাস কোর্সের পরীক্ষা ছিল ।
2to ঘন্টা পড়তেই ঋষি বলল আমি যাচ্ছি বাহিরে তুই আয় ঋতিকা ও সারা দিল ঠিক আছে -------
ঋষি বাহিরে বেরিয়ে এল ----------------
আজ তুমি নেই (পার্ট-১)
---------------------------------
----------------------------------
ঋষির মনে প্রচুর প্রশ্ন সবে Hs পাস করেছে । কলেজে ভর্তি হবে -বাবা র পায়ের ব্যথা -সব দিক দিয়ে ভর্তি হবো কি হবো না।
এই রকম দু টানাই মন চলেছে । ঠিক এমন সময় পিওন কাকু ডাক দিল ঋষি কে ।এসে দেখ ল ঋষি র একটা চিঠি তাতে বলা হয়েছে আপনার পড়াশুনার টাকাটা রাইটাস এ গিয়ে নিয়ে আসতে হবে ।
ঋষির মনে আবার আশার সঞ্চার ঘটল । ঋষির প্রথম ট্রেন এ যাবে আবার অচেনা জায়গা ।
ঋষি দেখল বাবার মনে যেন একটি খুশি দেখা দিয়েছে । ছেলে আবার পড়াশুনা শুরু করতে পারবে ।
যাক ঠিক সময় ঠিক তারিখে ঋষি পোঁছে গেল রাইটাস এ ওখানে ঋষির সাথে পরিচয় হয় ঋতিকা বলে একটা মেয়ের সাথে।
তার বাড়ি ঋষির বাড়ির পাশের গ্রামে । পরিচয় হল ঋতিকা র সাথে ঋষির । কথা চলছে ঠিক এমন সময় একজন এসে বলল যাও তোমাদের ডাকছে ।দুজনে গিয়ে টাকার চেক টা একজন সনামধন্য ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়ে এলো ।
তারপর বাড়ি আসতে হবে এই চিন্তা টা ঋষি কে গ্রাস করছিল ।
ঋতিকা র সাথে ত ও র বাবা আছে আমার সাথে ত কেউ নেই ।তখন ই ঋতিকা র বাবা বলল তোমার সাথে কেউ যখন আসে নি চিন্তা করো না আমি আছি বলে আস্বস্ত করল । কোন ক্রমে বাড়ি ফিরল ঋষি ।
এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ পর আবার দেখা হল ঋষির সাথে ঋতিকা র কলেজে ।সেখানে দুজনে কথা ও হল -বাড়িতে কে কে আছে এসব ।
যত দিন যায় ঋতিকা র সাথে মেলা মেশা বাড়তে থাকে । ঋষি র টিউশন ছিল না সে পড়ত কলেজের এক মাস্টার মশাই র কাছে যে মাস্টার মশাই টাকা নিত না ।
একদিন ঋতিকা ও এসে বলল যে আমি ও পড়বো কিন্তু মাস্টার পড়তে নিল না খুব কষ্ট পেলে মনে মনে সেটা উপলব্ধি করেছিলে ঋষি । সেদিন পড়া শেষে ঋষি দেখছে ঋতিকা তার জন্য অপেক্ষা করছে ।
ঋতিকা বলল ঋষি কে যে আমাকে ত পড়তে নিল না তাই তোর নোট স গুলো আমাকে দিবি আর আমার গুলো তোকে -তোকে চিন্তা করতে হবে আমি জেরক্স করে তোকে দেব । ঋষি ও সহমত পোষণ করল । যতদিন যায় আসতে আসতে খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেল ঋষি ও ঋতিকা ।
এবার পরীক্ষা চলে আসছে আর বাকি ছিল ২৬ দিন এমন সময় ঋষির বাবার পা র ব্যথা বেড়ে যায় । অপারেশন করতে হবে এই চিন্তা টা খুব হচ্ছিল । কিন্তু বাবার কাছে যদি থাকতে হয় তাহলে সারা বছর যেটা পড়লাম সেটা কি হবে।
খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিল ঋষি । এই কথা গুলো যখন ঋতিকা জানতে পারে ---
তখন ঋষি কে ডেকে বলে তুই চিন্তা করি স তুই কেবল অনার্স টা কে ভালো করে পড় আমি পাশের বিষয় গুলো ভালো করে পড়ছি তোকে বুঝিয়ে দেব । যখন বাড়ি আসবি একটা খবর দিস কেবল ।
প্রত্যেক সপ্তাহে যখন হাসপাতাল থেকে ঋষি বাড়ি আসত তখন ই ঋতিকা পড়া বোঝাত ।এই ভাবেই চলল ।বাবার অপারেশন দিন ঠিক হল সাথে পরীক্ষা চলে এল । ভালো ভাবে অপেরাসন করে বাড়ি ফিরল আর তার পর র দিন পরীক্ষা পড়ল ।অনার্স টা খুব ভালো ভাবেই হল ।
রেজাল্ট বেরোল ঋতিকা অনার্স এ পেল 45%আর পাশে পেল 65% সেখানে ঋষির ছিল দুটো তেই 62%মত । সেদিন খুব কষ্ট হয়েছিল ঋষির কারণ সে জানে ঋতিকা রেজাল্ট কেন খারাপ হয়েছে । ঋষির বাবা অনেক টা সুস্থ হয়ে উঠল ।
ঋতিকা কয়েকবার এল ঋষির বাবা কে দেখতে ।
বাবা মা ও খুব ভালোবাসতে শুরু করল ঋতিকা কে ।
যত দিন যায় বন্ধুর সম্পর্ক টা তত বেশি একে অপরের প্রতি নিভর হয়ে পড়ে ।
টাকা যখন দরকার হবে তুই আমার কাছে নিবি পরে আমাকে দিয়ে দিবি এটাই ছিল ঋতিকা র কথা আর বাবার অপেরাসন সময় এটা ই করেছিল ঋতিকা ।
খুব ভালো ই কাটছিল ঋষির । একদিন হঠাৎ শুনতে পেল ঋষি - ঋতিকা র বাবা মারা গেছে ।
সেদিন সারাটা দিন ই ঋতিকা র পাশে ছিল ঋষি । এই ঘটনার কিছু দিন পর যখন পুরো বিষয় টা অনেকটা স্বাভাবিক ঠিক তখন ই কলেজে বলল ঋতিকা যে -তোকে কালকে একটা কথা বলবো সাথে সাথে ----------------------------------------------
ঋষির মনে যেন এক অদ্ভুত খুশি দেখা দিল । ঋষির ধারণা ছিল এবার নিশ্চয় বলবে যে ও আমাকে কত টা ভালোবাসে ।
সেদিনের রাত টা যেন কাটতেই চাই না ক খন সকাল হবে আর ঋতিকা বলবে তাকে ভালোবাসার কথা ।
ঋষির মনে যেন এক অদ্ভুত আনন্দ ।কিন্তু এই আনন্দ যে কাউকে বলার নয় ।
যাক কলেজ এ গিয়ে যেখানে প্রতিদিন বসত সেই ছাতিন গাছে র তলায় অপেক্ষা করছে ঋষি ।
সময় যাচ্ছে কিন্তু ঋতিকা আসছে না ।
অপেক্ষা করতে করতে এক সময় এল ।
আসার সাথে সাথে ই প্রচুর কথা শোনাতে লাগল ঋষি ।
এর পর প্রচন্ড কাঁদতে শুরু করল ঋতিকা ।
ঋষি বলল কি রে এর আগে ত তোকে অনেক এই রকম কথা বলেছি কই কাঁদিস নি আজ কেন কাঁদছিস ।
কিছু না বলেই
ঋতিকা -------
একটা কার্ড দেয় ঋষি কে ।
তারপর ওখান থেকে ঋতিকা ও চলে যায় ।
ছাতিন গাছ তলায় বসে বুক ডুকরে ডুকরে কাঁদতে শুরু করল ঋষি
কারণ ওই কার্ড টা ছিল :::::::::::::::::
সৃষ্টি
সকলের কাছে অনুরোধ বাড়িতে থাকুন
সুস্থ থাকুন ।